লোকটা আমান পাগলা ।। চাষা হাবিব
আগস্ট এলেই লোকটাকে দেখা যায়— পাগলা বলে সবাই আমান পাগলা।
অলিতে—গলিতে রাস্তায়; মোড়ের পসরায় ডাস্টবিনের পাশে কিংবা নর্দমার ধারে; সকাল থেকে রাত চষে বেড়ায় লোকটা শহর জুড়ে কাঁধে বস্তায়।
নাম জিজ্ঞেস করলেই— ক্ষুদিরাম আমি ক্ষুদিরাম বলেইাি ব্যস্ত হয় নিজ কাজে।
দুপুরে ডিসি অফিসের সামনে , ডাস্টবিনে কী সব খুঁজছে
বললাম— কী খুঁজছ ক্ষুদিরাম? আমি তো ক্ষুদিরাম নই , আমি আসাদ, বলেই হাতড়ায় ডাসবিনে।
বিকালে আবার দেখা গলির মোড়ে, বললাম— আসাদ চা খাবে কী? ও বলল— আমার নাম নুর হোসেন, বলেই বস্তা কাঁধে চলে যায় লোকটা।
এবার বিস্ময়— সন্ধ্যে লিলির মোড়ে জটলা— থমকে দাঁড়াই। কী হয়েছে বাহে বলতেই একজন ভীড়ের থেকে বলে ওঠে— একটা চোর ধরা পড়েsdfছে। ভীড় ঠেলে এগুতেই দেখি, ল্যাম্প পোষ্টে বাঁধা— সকালের ক্ষুদিরাম; দুপুরের আসাদ, বিকালের নুর হোসেন। পাশে মাল বোঝাই বস্তা, যা সকালেও খালি ছিল। কে যেনোািুি বলল, ঐ বস্তায় সব চুরির জিনিস। চুরি করেছ? —লোকটা নির্বিকার, উত্তর নেই। আমি বস্তার মুখের বাঁধন খুলে মাটিতে ঢেলে দিলাম—
বেরোল ছেঁড়া, ফাটা, দুমড়ানো—মোচড়ানো প্লাস্টিক আর কাগজের যত জাতীয় পতাকা।
মুহূর্তে ভীড় অদৃশ্য —চোখ ভরা জল নিয়ে বাঁধন খুুাুলে দিলাম পাগলা আমানের।
আমার মুখের দিকে তাকাল একবার, তারপর মৃদুস্বরে বলল, যেন কেউ পা দিয়ে মাড়িয়ে না যায় তাই…. তারপর আবার পতাকা গুলো বস্তায় ভরে নিয়ে চলে গেল দূর থেকে দূরে; আমি দাঁড়িয়ে থাকি স্থানুর মতো অপার বিস্ময় আর যন্ত্রণা বুকে…
পড়ুন কবিতা: প্রিয়তম কলকাতা

