Sunday, March 1, 2026
spot_img
Homeদীর্ঘ কবিতাদীর্ঘ কবিতা:আমিই পূর্বপুরুষ

দীর্ঘ কবিতা:আমিই পূর্বপুরুষ

আমিই পূর্বপুরুষ ।। চাষা হাবিব

পড়ুন কবিতা: 

আমার পূর্বপুরুষের গল্প
সেই এক জিনমের গল্প
ছিল যার অপূর্ব সৌন্দর্য
যেখানে কেউ একজন পেরিয়ে তেপান্তর
তাঁতার–গান্ধার;আদিস্বর কোটিবর্ষ পুন্দল
জ্যোৎস্না রাতে ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে
দারুল;তাকে নিয়ে যেতো উড়িয়ে
ভোরের আলোয় শিশির ঝলমল
সোনা ধান
ক্ষেতের পাশ;
তাকে পাওয়া যেতো স্নাত আবীরে
তার বিছানায় ছড়ানো ছিল
কাঁচা লবঙ্গ,এলাচ,দারুচিনি
তারপর বহুযুগ
এরপর আমি।
অন্তদৃষ্টির প্রসারতা নীলিমালীন করে
ছড়িয়ে দিয়েছিল পাখির পালকের চেয়ে
নরম অনুভবের মেদুরতা।
যদিও পেয়েছিল গাঢ় আঁচলে সৌর তেজ
প্রাণবহ্নি মমতার বর্ণচ্ছায়
মৃত্তিকাময়ী নরম সান্ত্বনা।
সর্বক্ষণ যেনো নিরিবিলি শান্তমধুর
সেই ঘন একান্ততাকে খণ্ডিত না করা
যদিও কোলাহলে কর্মব্যস্ততার কলরব
সেই পল্লবঘন স্নিগ্ধ ছায়াচ্ছন্ন তরুশাখা
যেখানে লগ্ন হয়ে বেড়ে ওঠে একটি
কোমল–কাতর লতিকা;
ফুল সম্ভারে বিকশিত বিটপ।
যদিও মহাশূন্যতা হাহাকার করে
অনুবেদনাসিক্ত আশ্রয় না ভেঙে
সেখানে বেড়ে ওঠে শিশিরস্নানে নম্রতা
কোমল প্রত্যুষে পুবের হাওয়া আকাশ।
সেখানে ধবণিত প্রগাঢ়তায় থমথম করতো
ধাবমান নিলয়স্রোত।
থরথরে কাঁপতো যেনো প্রকৃতিছন্দ
ছোট–বড়–সখা;
সদস্য ফুল–লতা–ঘাস গুল্ম
বাতাসের আড়াল থেকে কে যেনো আসে
সানন্দ মধুময় ভাব অধীরতা
টলটল রেণুকা স্মৃতির পরত।
সুখনিঃশ্বাসের কোল ঘেঁসে কেমন জেগে ওঠে
মনে হয় সেই গম্ভীর গাঢ় আনন্দ ধ্রুবলোকে
অনন্ত যাত্রা আমি বেয়ে চলি
সেই ইতিহাস;সমাহিতির জীবন স্মৃতি
আমি বয়ে চলি উদ্বেল কালপ্রপাত
অভিনিবেশের শান্ত জমিন অঙ্কুরোদগম
প্রশ্রয় বীজ;
যেনো এলোমেলো হারিয়ে যেতে যেতে
আমিও অগোছালো ভালোবেসে হয়েছি
আমার পূর্বপুরুষ।
আমিও জীবনানন্দে

মেহনতি শরীর মাটির গর্ত থেকে
চিনিয়ে ধনরত্ন ছিনিয়ে নেয় তেজারত
পোক্ত শরীরের ঘামে গর্ভ থেকে মাটিও
ফিরিয়ে দেয় শস্যের সম্ভার-সোনা ধান।
রান্নাঘর কাঠাল কাঠের পিঁড়ি পেতে
পিলসুজের উপর প্রদীপ স্নানে-আলো বিতরণ
সেই আধা আলো-আধো অন্ধকার
মায়ের গল্প বলা,মাছ ধরার গল্প,প্লাবনের গল্প
ডাইনি কিংবা নবীদের কাহিনী-মাছের দেশ
ছাঁদ পেটাতে পেটাতে শ্রম লাঘবে গানের আসর-
ইস্পাত বুকে হলদে ছাপ
তালিকায় উঠে আসে বৃষ্টি-রোদ ও রোগ।
স্মরণপ্রান্তের প্রায় শেষ সীমানায় হাটতে হাটতে
আকাশের বুকে মেঘ পালতুলে সাঁতার কেটে যায়
সেই নৌকায় আমিও আকাশে বেড়াই
লাশকাটা ঘর-কখনো কখনো দূরের পাল্লা
শহর ছাড়িয়ে গ্রাম-নদীর রেখা;
নদী স্ফীত হয়ে ছুঁয়ে দেয় পথ
বহুদূর সরে যাওয়া ধানক্ষেত।
সেসব ধানক্ষেত রাত্রির নীরব মুহূর্ত অন্ধকারে
ম্লান করা শীর্ণা নদী
ওপারে সবুজ অন্ধকার বালুর তটে-আমলকি বনে
আমি হেটেছি বহুবার;অলিতে-গলিতে উষাকালে গভীর রাতে।
বহুদিন হেঁটেছি চূড়ায়-পাশ দিয়ে নদীর সঙ্গমে
লোনা মাঠের আলপথে
হতে শহর সোডিয়াম নিয়ন-রাজপথ সেখানো
ধূলোর সঙ্গে মিশে আছে
মিশে গেছে আনেক বিলুপ্ত নগরীর ধুলো ও বালি
কবর,মসজিদ মিনারের কাছে হেঁটেছি রোজ আমি
এখনও হাঁটি;এক নেশায় আক্রান্ত হয়ে সাথীহীন
মন পবনের নৌকায় যুগ-যুগান্তরের বাংলার পথ
এ জীবন পতনের
এ জীবন অন্ধকারের
এ জীবন আলোকের
আশা ও বিশ্বাস নির্দোষ পৃথিবীর মানুষের মন নির্মল-
অথচ পরমান্দে নৃত্যকর। যেনো স্বাত্ত্বনা;
ভিতর সেই কোনো জননী
গাঢ় নীলিমায় নির্জন রৌদ্রে কোনো বেদনার ভিতর
ধ্যানমগ্নতায় নিবষ্ট হয় আত্মসমোহন।
নির্বাসন দন্ড থেকে মুক্তি পায় অনাদৃত শব্দরা
পায়ের শব্দের সুর গেছে থেমে
অন্ধকারে সুন্দরের রক্ত-আজ স্পন্দনের মতো
ধসে যায় চোখের উপর চোখ;
মুক্তি পায় না নির্বাসন;ঝরে রাত্রির গাঢ় সবুজ অন্ধকার।
কপট হৃদয় জঙ্গলের মতো
বুনো হাওয়ায় করে সংগ্রাম বাঁচার। লোভের পর্বতে
উঠতে থাকে চাঁদ,নামতে থাকে রিরংসার খাঁদ।
আমিও জীবনানন্দ হয়ে হতে চাই তিমিরবিনাশী
শব্দ পাখির ডাক।
ভোরের আলোতে আঘাত ছাড়া ধূপের মতো
জনাংশের জনতিক ক্ষীণকায় জীবন।
এ যুগের আছে বর্ণময় দ্যোতি প্রতীতির সঙ্গে
অনিশ্চয়তা,আছে সত্য হয়ে প্রতিভাত হওয়া
সময় হতে চলেছে আজ গোছানো তাজে শরবিদ্ধ।
হৃদয়ের জমাট বরফ ভেঙ্গে দিত যদি কেউ
আমিও শিশুর মতো নিস্কলক হতাম।
গ্রামের অন্ধকার রাত্রিতে প্রদীপতে আঁচলের আড়াল করে
পথ চলার মতো বাঁচবার নতুন সাধ।

মেহনতি শরীর মাটির গর্ত থেকে
চিনিয়ে ধনরত্ন ছিনিয়ে নেয় তেজারত
পোক্ত শরীরের ঘামে গর্ভ থেকে মাটিও
ফিরিয়ে দেয় শস্যের সম্ভার-সোনা ধান।
রান্নাঘর কাঠাল কাঠের পিঁড়ি পেতে
পিলসুজের উপর প্রদীপ স্নানে-আলো বিতরণ
সেই আধা আলো-আধো অন্ধকার
মায়ের গল্প বলা,মাছ ধরার গল্প,প্লাবনের গল্প
ডাইনি কিংবা নবীদের কাহিনী-মাছের দেশ
ছাঁদ পেটাতে পেটাতে শ্রম লাঘবে গানের আসর-
ইস্পাত বুকে হলদে ছাপ
তালিকায় উঠে আসে বৃষ্টি-রোদ ও রোগ।
স্মরণপ্রান্তের প্রায় শেষ সীমানায় হাটতে হাটতে
আকাশের বুকে মেঘ পালতুলে সাঁতার কেটে যায়
সেই নৌকায় আমিও আকাশে বেড়াই
লাশকাটা ঘর-কখনো কখনো দূরের পাল্লা
শহর ছাড়িয়ে গ্রাম-নদীর রেখা;
নদী স্ফীত হয়ে ছুঁয়ে দেয় পথ
বহুদূর সরে যাওয়া ধানক্ষেত।
সেসব ধানক্ষেত রাত্রির নীরব মুহূর্ত অন্ধকারে
ম্লান করা শীর্ণা নদী
ওপারে সবুজ অন্ধকার বালুর তটে-আমলকি বনে
আমি হেটেছি বহুবার;অলিতে-গলিতে উষাকালে গভীর রাতে।
বহুদিন হেঁটেছি চূড়ায়-পাশ দিয়ে নদীর সঙ্গমে
লোনা মাঠের আলপথে
হতে শহর সোডিয়াম নিয়ন-রাজপথ সেখানো
ধূলোর সঙ্গে মিশে আছে
মিশে গেছে আনেক বিলুপ্ত নগরীর ধুলো ও বালি
কবর,মসজিদ মিনারের কাছে হেঁটেছি রোজ আমি
এখনও হাঁটি;এক নেশায় আক্রান্ত হয়ে সাথীহীন
মন পবনের নৌকায় যুগ-যুগান্তরের বাংলার পথ
এ জীবন পতনের
এ জীবন অন্ধকারের
এ জীবন আলোকের
আশা ও বিশ্বাস নির্দোষ পৃথিবীর মানুষের মন নির্মল-
অথচ পরমান্দে নৃত্যকর।
যেনো স্বাত্ত্বনা;ভিতর সেই কোনো জননী গাঢ় নীলিমায়
নির্জন রৌদ্রে কোনো বেদনার ভিতর
ধ্যানমগ্নতায় নিবষ্ট হয় আত্মসমোহন।
নির্বাসন দন্ড থেকে মুক্তি পায় অনাদৃত শব্দরা
পায়ের শব্দের সুর গেছে থেমে
অন্ধকারে সুন্দরের রক্ত-আজ স্পন্দনের মতো
ধসে যায় চোখের উপর চোখ;
মুক্তি পায় না নির্বাসন;ঝরে রাত্রির গাঢ় সবুজ অন্ধকার।
কপট হৃদয় জঙ্গলের মতো
বুনো হাওয়ায় করে সংগ্রাম বাঁচার। লোভের পর্বতে
উঠতে থাকে চাঁদ,নামতে থাকে রিরংসার খাঁদ।
আমিও জীবনানন্দ হয়ে হতে চাই তিমিরবিনাশী
শব্দ পাখির ডাক।
ভোরের আলোতে আঘাত ছাড়া ধূপের মতো
জনাংশের জনতিক ক্ষীণকায় জীবন।
এ যুগের আছে বর্ণময় দ্যোতি প্রতীতির সঙ্গে
অনিশ্চয়তা,আছে সত্য হয়ে প্রতিভাত হওয়া
সময় হতে চলেছে আজ গোছানো তাজে শরবিদ্ধ।
হৃদয়ের জমাট বরফ ভেঙ্গে দিত যদি কেউ
আমিও শিশুর মতো নিস্কলক হতাম।
গ্রামের অন্ধকার রাত্রিতে প্রদীপতে আঁচলের আড়াল করে
পথ চলার মতো বাঁচবার নতুন সাধ।

আমি খুঁজে চলি–শীত, বর্ষা, হেমন্ত
পাতারা হলুদ হলে
ধানে জাগে গেরুয়া রঙ;
রোদ্দুরের নিভু নিভু রং নরম হয়ে আসে
অশ্বত্থের জানালায় উঁকি দেয় পাখিরা।
নীড়ের সন্ধানে শিশিরের গন্ধ মেখে
পিতার স্বর্ণ শস্যের ক্লান্তিতে নিভন্ত ম্লানতায়
শান্ত হয় প্রকৃতি থেকে যায় সব মুগ্ধ স্বপ্ন
শুভ্র স্বপ্নের মতো বাস্তবতা সামনে এসে
ব্যথিত করে আতুরে মহান ধ্বংসাবশেষ;
সমারোহের বিশালতায় আমি নিঃস্ব হই
স্পর্শকাতরতায় নিভে যায় হেমন্তের রুপ
নিভে যাওয়া দীনতায় ক্লান্ত হয়ে মুছে যায়
শিশির–যেনো রিক্ত,নিঃস্ব অবহেলিত হেমন্ত
হারাবার হাহাকারে কেঁদে ওঠে কোঠাঘর।
অথচ আমার খড়ের গাদায় গ্রাম্য দীনতা
প্রাণের মতো–
গৈরিক গোধূলি আসে
আসে শান্ত সন্ধ্যা;
ভাসিয়ে নিবিড় নীল এখানে
রাত্রি গলে গলে যায়।
আমার পাঁজরে অসহ্য সুখে
টনটন করে ওঠে নানান রঙের মতো
আমার কুণ্ঠিত কোঠাঘর আশ্রয়;
সেখানে আমি অজস্র তারায় তারায়
একা একা রাত জাগি;
জাগে আমার সাথে অকূল আশ্বিনের আকাশ।
জারুলের বনে মেঘের মতো ভারি হাওয়া
কতবার আলুথালু হয়ে ভেঙে যায় উঠোন
গোধূলির মেঘও নক্ষত্রের মতো হয়ে যায় নক্ষত্র
সহস্থিতির দিনগুলো রুপ হয়;
হয়ে ওঠে ভাঙ্গা হাটে চাঁদ ঝলমল।
মায়ের রোষকষায়িত অরুণ চোখেও
হয়ে ওঠে অতল দিঘির মতো
আর বাবা বিক্ষোভহীন–শান্ত স্থির;
যদিও ভ্রান্ত উদ্বেল দুর্যোগে
যেনো রাতের শেষে প্রসন্ন প্রভাত;
সুনীল আকাশের অজস্র তারকার মতো
অজস্র কবিতার ফুল;
আবার এলে সেইসব ভীষনতম হিংস্র দুর্দিন
ছাড়তে হয় নাড়ীপোতা শিকড়
যেখানে মেলে পরম আশ্রয়।
নীড়ে ফেরা শ্রান্তময় জীবন
নিশ্চিন্ত থাকবার মতো দিন
যেনো অন্তঃশীলা ফল্লুধারা;
যেখানে জীবন নিভৃতির কোনঘেষে নিয়ত বহমান।
যেখানে পাতার ঝালরের ফাঁক দিয়ে
আলোর জলে মুছে নেওয়া ঝকঝকে আকাশ
বেদনার ধার মরে না–পুরনো হয়না অস্থিরতা
কে খোঁজে সেই খুরধার অনুভবের খবর।

এই বাংলা ত্রস্ত্র নীলিমার খণ্ডিত অবসর
বাতাসের ঈথার তরঙ্গে
আমিও হয়েছি মুগ্ধময়;
আমিও আকাশের অবারিত আলোতে
উজ্জ্বল তৃণতরঙের প্রাঙ্গণ খুঁজে ফিরি
শহুরে আকাশ–কাঁচা মাটির ঘ্রাণ
যেনো পুড়ে দেয় অক্ষমতার বিলাপ;
কি অসহায় শূন্যতা তীক্ষ্ণ করে
বিঁধছে আমার প্রবল হৃদয় চরে
যেনো অদৃশ্য দূরত্বের বেষ্টনী ঘিরে রাখে
আমাকে গভীর থেকে গভীর করে
নেমে আসে স্বপ্নলোক থেকে পরিহাস;
দীর্ণ করে সত্য আলো আর ত্রস্ত্র নীলিমা;
মরকতের মতো উজ্জ্বল সবুজ প্রান্তর
অর্জুন ঝাউবন–সোনালি রোদ,অশ্বত্থ বট
খয়েরী শালিকের বাতাবী গাছে
দীর্ণ করে সত্য আলোর বিস্ময় বেদনা।
আমি বুভুক্ষু হয়ে খুঁজে চলি–
শিশিরঝরা ধানের গন্ধে ভরা হেমন্ত রাত;
পূর্বপুরুষের সেই গল্পের মতো রাঙা প্রভাত
গাছের পাতারা যখন হলুদ হয়
জোনাকিরা দলবেঁধে যখন ঝিলমিল করে
দূরের মাঠে–সেই গল;
খুঁজে ফিরি জ্যোৎস্নামোছা রাতে
শিশিরে ধানের দুধে ভিজে ভিজে
হাওয়ার শরীরে স্বপ্নময় হয়ে;
সোনা ধানক্ষেতের পাশে ভোরের আলোয়
কাঁচা লবঙ্গ–এলাচ–দারুচিনি খুঁজে খুঁজে;
দূরতর সায়াহ্নের সমীপবর্তী সবুজার্দ্র
রহস্যময় ধূসর পাণ্ডুলিপি ঘেঁটে ঘেঁটে;
আমি নির্মল হয়ে খুঁজে ফিরি ভালোবেসে আমার
পূর্বপুরুষের রূপোলী ঘামেভেজা খোলা প্রান্তরে।

সারা মুখে যেনো ঈষৎ রক্তাভ ছড়িয়ে
সরল ঔৎসুক্যে ঝলমল করে মুখায়ব;
সেইসব পুস্পকোরকের অনাদি বিস্ময়
অপার ভালোবাসা অলোক দেখা দিন;
প্রশান্তি অতুল আস্বাদ মগ্নতা সর্বক্ষন
সেই তো জন্মেই তোমার সাথে জানাশোনা আমার
সর্বপ্রকৃতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপকরণময়
যেনো সবই আপন–আমার পূর্বপুরুষ;
অনুদঘটনীয় রহস্যের আলো আঁধারিতে আপন।
মখমলের মতন সবুজ ঘাস
রক্তিম পাপড়ির সুচারু আল্পনা কৃষ্ণচূড়া;
সূর্যের জাফরানি আলোর রঙ মুড়ে থাকে সর্বাঙ্গে
লতাপাতা–পাখপাখালি স্নিগ্ধ শিশির
গন্ধরাজ আগাগোড়া শাদা ফুলে গাথা;
পাতার আড়াল থেকে উঁকি দেয় নীলজবা
নরম মাধবীগৃচ্ছে রক্তবাগ;
কাঠালিচাঁপার তীব্র বাতাসে
মধু গন্ধে ভারাক্রান্ত বাতাস;
সেই সব আর কাব্যচিত্ত ধ্যানমগ্নতায়
তর্জমা করে রক্ত ছোঁয়া–উৎসব আনন্দ।
হিমকরুণ শরীর অসময়ে ঝরে যাওয়া
কটি কমলালেবু, নষ্ট শশা কিংবা
ছড়িয়ে থাকা ঝাউপাতা হয়ে যায় চোরকাঁটা;
তমাল তারার মতো বটফল;গৈরিক গ্রীষ্ম হয়ে ওঠে
বসন্তের বুকে কঠোর সন্ন্যাসী যেন;
দৃপ্ত পায়ে হেঁটে চলে উনুনের পথে;
যে পথ আমার পূর্বপুরুষের সেপথ;
অগ্নিবরণ কৃষ্ণচূড়ার সবুজ মেহেদি;
বেড়ার কিনারে আলো ছড়ায় তখনও
একসারি ইট রঙের লিলিফুল;
আকাশে তরল আগুন ছড়িয়ে
হৃদয়ে ঝড় তোলে বাতাসে অগ্নিকনা;
যেন বিপদ সংকেত ইস্পাতের মতো;
অবকাশের দিকে তাকিয়ে ছটফট করে
একটি মুগ্ধ অস্থিরতা এখনো।
কি অপূর্ব রুদ্রময় দীপ্তি;
কি ভয়াবহ তীব্র দাহ;
কি আশ্চর্য দৃঢ় ঔজ্জ্বল্য;
মাঝে মাঝে নিতান্ত নীলোৎপল মেঘমালা
দিগন্ত ভরিয়ে ফেলে চোখের তৃপ্তিময়তা;
আমি দু’দণ্ড তৃপ্তি নিয়ে পাখির চিৎকারে
উদাস হই অলস দুপুরে;
শুধুই নিরালা, গাঢ় ঘুমে বনশ্রী;
মাথার উপর দিয়ে বয়ে যায় সফেদা মেঘের সারি
শুনতে পাই পিতৃব্যের ডাক ;
বাজপাখির চক্কর আর কান্না;
মনে হয় যেনো বসে আছি মরুর সবুজ
বাগানের ভিতর একা আমি;
দূরে দূরে তাতার দস্যুর হুল্লোড়
অথচ সে বাঙালি প্রিয়া আমার চির চাষা বাঙাল
আমি হারিয়ে ফেলেছি কখন জানি ধানের আর
শিশিরের দেহের ভিতর আমার খুঁজে ফেরা পূর্বপুরুষ।

আমার দাদা কাচুম–উদ–দীন
জীবনকে দেখেছেন খড়ের গাদায়
খই আর গুড়ের ডিব্বায় তুলতুলে
তেলির তেল মেখে খড়ম শব্দে;
পেরিয়েছে একাত্তর–পচাত্তর তেরশত নদী;
যদিও ধূমের রাতে পুড়িয়েছে আখের খড়ি
তেরঙ্গা নদী ভেলামতির দেহজুড়ে নসিমন জ্বলেশ্বরী–
যেনো স্রোতের টানে আদিগঙ্গা
পার হয় সেরাতের শরীর নিয়ে গোলাধানে;
কে নাকি কুড়িয়ে কুড়িয়ে একবস্তা ধূন্দল নিয়ে
উপস্থিত হয়েছিল শরনার্থী শিবির।
এসেছিল একদল হারামজাদা রক্তখোর
ধূলোর বস্তাকাঁধে;
যার জন্য অপেক্ষায় রঙচঙ মহাজাল…
দাদা বলতেন কবিতার শোক বড় মর্মান্তিক
তবুও পিতার ডাকে যার যা কিছু আছে
তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় ঝাপিয়ে;
পাড়ি দেয় প্রিয় বুকে মাটি মেখে গোরস্থান।
দাদা একগোছা মাদুর কাঁধে নিয়ে হাজির
শরনার্থী শিবির;যেনো ঘুমাতে পারে সবাই
কি সহজ মানুষ যেখানে জীবন সহজিয়া;
আউশের গজানো ভাতেই তৃপ্তির ঢেঁকুর।
দাদা কাচুম–উদ–দীন বুকে পুষে রাখে তেপান্তর
আর পিতার শোকে ধূ ধূ পাথার চাষে রাতদিন।

শুনুন কবিকন্ঠে কবিতা

Chasa Habib
Chasa Habibhttp://chasahabib.com
Chasa Habib, a Bangladeshi poet, writer and a researcher writing in Bengali language. More than 12 books are published.
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments