মৃত্যু মাটিতে নামে আকাশে নয় ॥ চাষা হাবিব
তারা আর নামেনি—
একটি খেলনা ছিল, একটি গল্প ছিল— ছিল দুর্দান্ত আকাশ।
মাটির সব সীমা পেরিয়ে যাবে একদিন—
জানালার পাশে বসে থাকা মুখে ছিল বিস্ময়, চোখে স্বপ্ন রঙিন।
কে জানত, মেঘের ভেতরেও লুকিয়ে থাকতে পারে নিঃশেষ নীরবতা!
একটা বিকট শব্দ, থেমে যাওয়া ডানার গতি— তারপর সব নিস্তব্ধ।
শুধু ধোঁয়া, ছেঁড়া জামা, আর একটি পুতুল পড়ে থাকে নিঃসঙ্গ।
তারা আর ফিরবে না স্কুল থেকে, চকলেট চাইবে না, গল্প শোনাবে না
মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়বে না আর কেউ— শুধু শূন্যতা বোবা শূণ্যন।
কতটা স্বপ্ন ভেঙে গেলে একটি পৃথিবী থেমে যায়!
কতটা কান্না জমলে আকাশ কেঁপে ওঠে এমন!
তারা আজ তারা হয়ে— আলো হয়ে জ্বলে থাকে অদৃশ্য কোনো দ্বীপে।
আমরা শুধু কাঁদি— আর ফিরবে না তারারা আকাশের দেশে!
অথচ সেদিনও ছিল শিশিরের মতো স্বপ্ন আকাশ— মায়ের মায়াবী চুম্বন;
ছোট দুটি হাত জানালার কাঁচে, নভোযানের ডানায় আঁকা ছিল হাসি।
তারা জানত না, আকাশও রুদ্র হয়— যেখানে মেঘেরা তুলো নয়
থাকে নিঃশব্দ বিস্ফোরণ— মুহূর্তেই থেমে যায় কোলাহল;
চকলেট, খেলনা আর গল্পের ঝাঁপি— ভেঙে পড়ে ভোররং নীল শিশির।
মা-বাবা চেয়ে থাকে শূন্যে— স্কুল ব্যাগে আজ আর কেউ রাখবে না বই
খেলাঘর খালি, কাঁথার নিচে নিঃশ্বাস নেই— রক্ত হিম নরম মুখছবি।
আকাশে শিশুরা— জ্বলছে, নিভছে, বলছে—
আমরা হারাইনি বাবা, রয়ে গেছি আলোয় মা; মৃত্যু শুধু মাটিতে— আকাশে নয়।
পড়ুন : চাষা হাবিবের প্রবন্ধ

