ছত্রিশ জুলাই: আগুনে ঠাকুরঘর
রাতটাকে কেউ আটকে রেখেছিল কাঁচের বোতলে
রাত বলেছিল— আমি আজ বিস্ফোরণ হবো।
রাস্তাগুলো সেইদিন মেরুদণ্ড সোজা করে হাঁটতে শিখে গিয়েছিল
আর চাকার নিচে পিষ্ট হয়নি মানুষ—
বরং মানুষই পরিণত হয়েছিল জ্বলন্ত চাকার ঘূর্ণিতে;
তারা গড়েছিল আগুনের ঠাকুরঘর— আয়নার ভিতর।
শহীদ ছেলেটিকে আমি দেখেছিলাম
সে স্লোগান ছুঁড়ে দিচ্ছিল আকাশে আর আকাশ নীল না হয়ে
রূপ নিয়েছিল এক বিশাল গলিত মুখের;
যেখানে প্রতিটি শব্দ ছিল পাখি—
আর প্রতিটি গুলি ছিল উড়ে যাওয়া রক্তজবা।
মাথার ওপরে হেলিকপ্টার নয় উড়ে ছিল
সরকার নামের অদৃশ্য মাছ। তার ডানায় ছিল ডিক্রি আর হুকুম;
কিন্তু মাছ তো আকাশে বাঁচে না—
তাই সে হু-হু করে পতন করেছিল মানুষের সমুদ্রের দিকে।
মেয়েটি যে পোস্টার হাতে দাঁড়িয়েছিল—
তার চোখে ছিল একেকটা ছায়াপথ, যেখানে প্রতিরোধ ছিল গ্রহ
আর ভালোবাসা ছিল গ্রহপুঞ্জের মাঝে গোপন বিস্ফোরণ।
সে হাসল— তার হাসি দিয়ে কেউ রাস্তা আঁকল:
ছত্রিশ জুলাই— জন্ম দেয় গ্রাফিতিময় অমল জীবন;
এখানে শহীদেরা না ঘুমিয়ে রাতের তারাদের সাথে জেগে রয়।
অবশেষে থেমে ছিল সময়; যেখানে ঘড়ির কাঁটা
হয়ে উঠেছিল প্রতিটি মানুষ— যারা বলেছিল—
আমরা মরে গেলেও মৃত্যু হবে না পক্ষে তোমার।
৩৬ জুলাই ২০২৫ দিনাজপুর মধ্যহ্ন সময়।
পড়ুন কবিতা: কিছু মানুষ ও ক’জন কবি

