প্রিয়তম কলকাতা ।। চাষা হাবিব
পড়ুন দীর্ঘ কবিতা: আমিই পূর্বপুরষ
কলকাতা-
তুমি তিলোত্তমা… যেখানে বর্ণমালা নিষিদ্ধ! ওখানেই-
যাবো বলে বের হতেই পাতার ফাঁকে ফাঁকে
উঁকি দেওয়া আলোঘর আমাকে খুন করে;
তৃষ্ণা আর উষ্ণতা গিলতে গিলতে মনে পড়ে
আমিও তো খুন হয়েছিলাম অনেক অনেকবার
প্রথমটা ঠিক মনে নেই তবে এরপর থেকে রোজ;
আমি নিস্তব্ধ হতে হতে আহত হই
আমি ব্যাকুল হতে হতে স্বপ্নীল হই;
উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলে উঠি
প্রিয়তম কলকাতা তুমিই তো -আপন আলোয়
তারপর নিভে যাও রোজ; যেনো দর্শনের বোঝাপড়ায় চেনাপথ;
বড্ড গাঢ় ঋণগ্রস্ত অপেক্ষা তোমার রোজ;
এখানে চলে বারবার নতুন প্রলেপ;
কলকাতা… তুমি রংচঙ্গা কলকাতা!
এখানে নারীরা ওড়না পরেনা…
তাতে কি… ফুঁসে উঠা স্তন এখানে তাক করা গোলা;
উড়ন্তমন হয়ে যায় এখানে অনন্তের পথে ছায়াঢাকা;
যদিও এখানে কিছু কাক চিল খেয়ে ফেলে আর জাগরণের নদীতে
ময়লা থৈ থৈ করে, এখানে সুবর্ণ সকাল-গণগনে দুপুর শান্ত বিকেল;
উড়ন্ত কাশ… হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার সুরে সুরে
নেচে যাওয়া বনেদি জোঠর আর মঙ্গা নাও;
কলকাতা… তুমি আজ শ্রীহীন তিলোত্তমা;
এখানে গর্ভবতী শস্যক্ষেত… নরম বুকে নির্ঝর
জোস্না রাত… বিবাদী সমন হাঁসফাঁস দেশপ্রেম
পাথরের বুকেও করেছে নবদিগন্তের হাতছানি।
এখানে ভালোবেসে দ্যাখো দেখবে…
তুমিও তোমার দৃষ্টান্ত পাতার ফাঁকে ফাঁকে
ফাঁকা পড়ে আছে সুর সহ গানের খাতায়।
কতদিন পরে… কলকাতা তুমি আজ তিলোত্তমা
তুমি আসরে নেমে হারালে বর্ণমালা আর আমি
আসবে বলে পথ চেয়ে রই বুকের পাটাতনে
আর কবে বলো… রক্ত ক্ষরণে রক্তিম হয়েছে বঙ্গ মাতা;
যেখানে- হৃদয়ের সবুজ পাতা কলকাতা- তোমার হালখাতা।
ভাবছি আমি উপগ্রহ হবো তোমার, দেখবো তোমায় অক্ষরেখায় মেপে;
তোমার যে পাশ সূর্য মেখে বিভোর, সেইপাশটাতেই বৃষ্টি আনবো ঝেঁপে
দ্রাঘিমায় আলতো করে ঘষে দিবো; কর্কটরেখা যেখানে–
মকরক্রান্তিও চুপ মেরে বসে বসে খেয়ে চলে সূর্যের উষ্ণতা হিলিয়াম;
আর অক্ষরেখায় বেড়ে চলা গাণিতিক ক্যালকুলাস।
নিস্তেজ হতে হতে, আহত হতে হতে, ব্যাকুল হতে হতে
মিলিয়ে যাও তুমি অক্ষাংশ থেকে দ্রাঘিমাংশে; সেইরূপ
আমি স্বপ্নীল হই–আমি রঙিন হই; নিহত হই রোজ।
এখানেই তো সবুজ ঘাসের ঝোঁপঝাড়ে জোনাকির আলো
খেলায় মেতে ওঠে গঙ্গারিদি- নেভে আর জ্বলে…
অথচ আজ সোডিয়াম নিয়নে ঘন-কালো আঁধারে
কলকাতা সাঁজে নবরূপে নব প্রসাধনে।
আমি তাকিয়ে থাকি পলকবিহীন
ভাবতে তুমি, যদিও… তাতে কী- চোখের জলে
এখনও এখানে আগুন জ্বলে…
তাকিয়ে থাকি আমি গায়ে গা জড়িয়ে…
চিনা বাদামের মত… তুমি-আমি বারোমাস
যেনো একখোসায় দুটি মন এক শরীর
আজ তুমি কলকাতা আর আমি- আজও শূন্য খোলসে
খোসা ভেঙ্গে চিনা বাদামের মতো মৃত আদিগঙ্গা।
নিশ্চিত বলতে পারি…
চোখ বন্ধ করে ধূপছায়া রাত সবুজ টিপ…
রক্তাক্ত সূর্যের বর্ণচ্ছটা বুকের ধুকপুক…
পাশায় হাতদাবা লাল জমিন শাড়ি আর রক্ত বুলেট
প্রথম প্রেম… তুমিই ছিলে প্রিযতম কলকাতা।
বিমূর্ত আমার বেঁচে থাকা এই ভেবেই আমি-চাঁদ;
তুমি সামলে রেখো জোস্নাকে- তুমি তো জানো;
মানুষ বড় অদ্ভত, যারা সুখ খুঁজতে কলিজা খোদাই করে নিজ হাতে;
ভেঙ্গে দেয় দেয়াল আবার গড়ে সীমানা পিলার;
আর রক্তের স্রোতে জেগে থাকে প্রদ্বীপ হয়ে;
ভাইয়ের রক্ত মেখে ভাই আসবে এ আশায়।
আজ তুমি কী প্রবল নেশায় টাল-মাতাল প্রেমে!
শরীরের আঁশটে গন্ধে জেগে উঠেছে তোমার শরীর;
প্রতিটি লোমকূপ, মাংশপেশী বেয়ে চুইয়ে পড়ছে,
তোমার বর্ণমালা আজ শুধুই খসে যায় মিশ্রণে;
অথচ আমাদের প্রবল উত্তেজনায় কাছে পাওয়া
তীব্র আকাঙ্ক্ষায় দ্বিগুণ গতিতে বেড়ে গেছে সব
হৃৎস্পন্দন! তাই হয়তো তুমি আজ তিলোত্তমা;
আর আমি আমার প্রেমে- তুমি শুধুই কলকাতা!
যেখানে বুকের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়ে পড়ে আছে
মাদকীয় নরক উন্মাদনা! প্রেম সূর নটরাজ, যে
কাছে এসো তুমিও উষ্ণ প্রেমে ছুঁয়ে দাও শরীর!
আবদ্ধ করো সুগভীর বাহুবন্ধনের তীব্র স্পর্শে;
পাগল করা স্পর্শ, শরীরের আমন্ত্রণে জেগে উঠুক শরীর;
জীবন ভরে যাক নগ্নসুখ- জামাহীন দেহে মুছে যাক পিলার।
প্রিয়তম কলকতা-
গুলাব জ্বরে ঘেমে যায় আমার দেহমন
অন্তরঘরের বারান্দা কুহুক আলোময়
যেখানে ডিম্বক আধার ঘুরে ঘুরে ভরে
আর গ্রাস করে ভরায় কল্পনগর; অথচ সেও ব্যকুল হয়–প্রতিস্বর;
যেনো সবুজ দেশান্তরে ছুটেছি কেবল উড়তে উড়তে মনোপাখিও
ক্লান্ত শ্রান্ত- সারা মুখে যেনো ঈষৎ রক্তাভ ছড়িয়ে;
সরল ঔৎসুক্যে ঝলমল করে মুখায়ব;
সেইসব পুস্পকোরকের অনাদি বিস্ময়
অপার ভালোবাসা অলোক দেখা দিন;
প্রশান্তি অতুল আস্বাদ মগ্নতা সর্বক্ষন।
সেই তো জন্মেই তোমার সাথে জানাশোনা আমার
সর্বপ্রকৃতিতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপকরণময় যেনো সবই আপন–
আমার পূর্বপুরুষ; অনুদঘটনীয় রহস্যের আলো আঁধারিতে আপন।
মখমলের মতন সবুজ ঘাস রক্তিম পাপড়ির সুচারু আল্পনা কৃষ্ণচূড়া;
সূর্যের জাফরানি আলোর রঙ মুড়ে থাকে সর্বাঙ্গে লতাপাতা–
পাখপাখালি স্নিগ্ধ শিশির, গন্ধরাজ আগাগোড়া শাদা ফুলে গাথা;
পাতার আড়াল থেকে উঁকি দেয় নীলজবা
নরম মাধবীগৃচ্ছে রক্তবাগ; কাঠালিচাঁপার তীব্র বাতাসে
মধু গন্ধে ভারাক্রান্ত বাতাস; সেই সব আর কাব্যচিত্ত ধ্যানমগ্নতায়
তর্জমা করে রক্ত ছোঁয়া–উৎসব আনন্দ;
হায় কলকাতা, তুমি কেবলই আমার তুমিহীন প্রিয়তমা।
হিমকরুণ শরীর অসময়ে ঝরে যাওয়া
কটি কমলালেবু, নষ্ট শশা কিংবা ছড়িয়ে থাকা ঝাউপাতা হয়ে যায় চোরকাঁটা;
তমাল তারার মতো বটফল;গৈরিক গ্রীষ্ম হয়ে ওঠে বসন্তের বুকে কঠোর সন্ন্যাসী
যেন দৃপ্ত পায়ে হেঁটে চলে উনুনের পথে; যে পথ আমার পূর্বপুরুষের;
সেপথ; অগ্নিবরণ কৃষ্ণচূড়ার সবুজ মেহেদি; বেড়ার কিনারে আলো ছড়ায় তখনও
একসারি ইট রঙের লিলিফুল; আকাশে তরল আগুন ছড়িয়ে
হৃদয়ে ঝড় তোলে বাতাসে অগ্নিকনা; যেন বিপদ সংকেত ইস্পাতের মতো;
অবকাশের দিকে তাকিয়ে ছটফট করে একটি মুগ্ধ অস্থিরতা এখনো।
কি অপূর্ব রুদ্রময় দীপ্তি; কি ভয়াবহ তীব্র দাহ; কি আশ্চর্য দৃঢ় ঔজ্জ্বল্য;
মাঝে মাঝে নিতান্ত নীলোৎপল মেঘমালা
দিগন্ত ভরিয়ে ফেলে চোখের তৃপ্তিময়তা;
আমি দু’দণ্ড তৃপ্তি নিয়ে পাখির চিৎকারে উদাস হই অলস দুপুরে;
শুধুই নিরালা, গাঢ় ঘুমে বনশ্রী; মাথার উপর দিয়ে বয়ে যায়
সফেদা মেঘের সারি- শুনতে পাই পিতৃব্যের ডাক ;
বাজপাখির চক্কর আর কান্না; মনে হয় যেনো বসে আছি মরুর সবুজ
বাগানের ভিতর একা আমি; দূরে দূরে তাতার দস্যুর হুল্লোড়;
অথচ সে বাঙালি প্রিয়া আমার চির চাষা বাঙাল
আমি হারিয়ে ফেলেছি কখন জানি ধানের আর
শিশিরের দেহের ভিতর আমার খুঁজে ফেরা পূর্বপুরুষ।
এই বাংলা ত্রস্ত্র নীলিমার খণ্ডিত অবসর; বাতাসের ঈথার তরঙ্গে
আমিও হয়েছি মুগ্ধময়; আমিও আকাশের অবারিত আলোতে
উজ্জ্বল তৃণতরঙের প্রাঙ্গণ খুঁজে ফিরি শহুরে আকাশ–কাঁচা মাটির ঘ্রাণ;
যেনো পুড়ে দেয় অক্ষমতার বিলাপ;
কি অসহায় শূন্যতা তীক্ষ্ণ করে বিঁধছে আমার প্রবল হৃদয় চরে;
আমি নির্মল হয়ে খুঁজে ফিরি ভালোবেসে আমার
পূর্বপুরুষের রূপোলী ঘামেভেজা খোলা প্রান্তরে।
মেহনতি শরীর মাটির গর্ত থেকে চিনিয়ে ধনরত্ন ছিনিয়ে নেয় তেজারত
পোক্ত শরীরের ঘামে গর্ভ থেকে মাটিও ফিরিয়ে দেয় শস্যের সম্ভার-সোনাধান।
সেই আধা আলো-আধো অন্ধকার, ছাঁদ পেটাতে পেটাতে শ্রম লাঘবে গানের আসর-
ইস্পাত বুকে হলদে ছাপ- তালিকায় উঠে আসে বৃষ্টি-রোদ ও রোগ।
স্মরণপ্রান্তের প্রায় শেষ সীমানায় হাটতে হাটতে
আকাশের বুকে মেঘ পালতুলে সাঁতার কেটে যায়;
সেই নৌকায় আমিও আকাশে বেড়াই লাশকাটা ঘর-কখনো কখনো দূরের পাল্লা
শহর ছাড়িয়ে গ্রাম-নদীর রেখা; ওপারে সবুজ অন্ধকার বালুর তটে-আমলকি বনে
আমি হেটেছি বহুবার;অলিতে-গলিতে উষাকালে গভীর রাতে।
আশা ও বিশ্বাসে নির্দোষ পৃথিবীর মানুষের মন নির্মল- অথচ পরমান্দে নৃত্যকর।
যেনো স্বাত্ত্বনা;ভিতর সেই কোনো জননী গাঢ় নীলিমায়
নির্জন রৌদ্রে কোনো বেদনার ভিতর
ধ্যানমগ্নতায় নিবষ্ট হয় আত্মসমোহন। ধসে যায় চোখের উপর চোখ;
মুক্তি পায় না নির্বাসন; ঝরে রাত্রির গাঢ় সবুজ অন্ধকার।
ভোরের আলোতে আঘাত ছাড়া ধূপের মতো জনাংশের জনতিক ক্ষীণকায় জীবন।
আমাকে নিঃশেষে বিভাজ্য করতে গিয়ে ভাগশেষ ফিরেছে বারবার ;
গুণিতকের গুণ্য–জোড়ায় জোড়ায়
কদমের রেণুর মতো ভেজায় আষাঢ়;
বর্ষার বিবর্ণ হাঁসেদের ডানায় খেলে যায় যৌবন রোদ।
যদি মৃত্যু হয় মৃত্যুর আগে
যদি জন্ম হয় জন্মের আগে
তবে জেনেনিও সময় যখন স্থির ছিলো, স্থির ছিলো সেইসব সময়ও–
যেটা মৃত্যুও নয় কিংবা জন্মও; শিশির তো মুছে যায় হাওয়ায়
তবে সূর্যস্নান সেও কি হাওয়া; তুমিই শেখালে-
এ জীবন পতনের
এ জীবন অন্ধকারের
এ জীবন আলোকের;
যেনো স্বাত্ত্বনা; ভিতরে সেই কোনো জননী গাঢ় নীলিমায় নির্জন রৌদ্রে
কোনো বেদনার ভিতর ধ্যানমগ্নতায় নিবষ্ট হয় আত্মসমোহন।
নির্বাসন দন্ড থেকে মুক্তি পায় অনাদৃত শব্দরা
পায়ের শব্দের সুর গেছে থেমে; অন্ধকারে সুন্দরের রক্ত-
আজ স্পন্দনের মতো ধসে যায় চোখের উপর চোখ;
মুক্তি পায় না নির্বাসন;ঝরে রাত্রির গাঢ় সবুজ অন্ধকার।
কপট হৃদয় জঙ্গলের মতো;
আমার পূর্বপুরুষের গল্প; সেই এক জিনমের গল্প
ছিল যার অপূর্ব সৌন্দর্য; যেখানে কেউ একজন পেরিয়ে তেপান্তর
তাঁতার–গান্ধার; আদিস্বর কোটিবর্ষ পুন্দল
জ্যোৎস্না রাতে ধান ক্ষেতের উপর দিয়ে দারুল; তাকে নিয়ে যেতো উড়িয়ে
ভোরের আলোয় শিশির ঝলমল সোনাধান ক্ষেতের পাশ;
তাকে পাওয়া যেতো স্নাত আবীরে; তার বিছানায় ছড়ানো ছিল
কাঁচা লবঙ্গ,এলাচ,দারুচিনি – তারপর বহুযুগ এরপর আমি।
অন্তদৃষ্টির প্রসারতা নীলিমালীন করে;
ছড়িয়ে দিয়েছিল পাখির পালকের চেয়ে নরম অনুভবের মেদুরতা।
যদিও পেয়েছিল গাঢ় আঁচলে সৌর তেজ; প্রাণবহ্নি মমতার বর্ণচ্ছায়
মৃত্তিকাময়ী নরম সান্ত্বনা। যেনো এলোমেলো হারিয়ে যেতে যেতে;
আমিও অগোছালো ভালোবেসে হয়েছি- আমার পূর্বপুরুষ।
আততায়ী প্রেমে আমি শিখে ফেলি জীবন
যে প্রেম যায়, সে ফেলে যায় – ও জীবন মানুষের যেন এক অখ্যাত ভুল;
আমিও বুঝেছি সেদিন- আগ্নেয় শিলা হলে মানুষও হয় মরনাস্ত্র।
অথচ এখনও খরায় কাঁদে সহস্র চাতক- অলক্ষ্যে কতশত ঘাসফুল
ফোটে ঝোপঝাড়ে- তোমার শরীর নয় যেনো এ আতরের শিশি;
ঘুণপোকা খেয়ে ফেলে কিশোরি চটুল হাসি
আর আমি হৃদয় ও শরীর নির্মাণ করি অক্ষরে;
পাতার ঘরে বসে বসে পত্রহীন- তুমিই অনন্ত, আমাকে করেছ নির্বাসন।
নগ্ন বাতাস, খোলা হাওয়া খাতায় পাতায় একেঁবেকে দূরেই বয়ে যাক বহতায়
তবুও যেতে হয় বারেবার এ দেহে কবিতা হেটে চলে
দু-পক্ষ নিয়ত চাঁদ ভালোবেসে- হায় তিলোত্তমা- তুমিই প্রিয়তমা।
হয়ত আমিও পূজিত হবো একদিন বা মিলে যাবো তোমায়
তুমিও তাই কিংবা কালের খেয়ায় হারিয়ে যাবো; তুমি-আমি
তাতে কি… একদিন দেখে নিও কলকাতা-
আমিও রুপসার জলে ভাসতে ভাসতে ডিঙ্গি নৌকায়
পাড়ি দিবো বিস্তর কোন পথ;
হয়তো মহাকালে স্তব্ধ হয়ে হারিয়ে যাবো
যেমন আদিগঙ্গা কিংবা বুড়ো গঙ্গার চর;
হয়তো চাষের জমিতে উর্বর করে আমিও
সফল চাষে সাজাবো আমার ক্ষেতের বাগান;
দেখেনিও- আমিও একদিন পূজিত হবো,
কেননা চাষার ক্ষেতে যে প্রাণ দিলে তুমিই
সে প্রাণে প্রাণিত হবেই চারপাশ. আর তোমার
ভরাট সাইরেনে বেজে উঠবে চাষাগান।
হৃদয়ের সুর ভেতো সভ্যতা- দেখেনিও;
এ পূজার আরতিতে ঠিক একদিন ঠাঁই হবেই…
শিল্পের যে প্রাণ… শিল্পীর যে প্রাণ মিলে যাবে একদিন
তুমি-আমি সীমাহীন; সে যে কবিতারও প্রাণ…
যে প্রাণ ভরায় বিশ্বপ্রাণ, তুমি তাই দিলে তিলোত্তমা;
শূন্য… সেই শূন্য… বিন্দু থেকে বৃত্ত, মহাশূন্য তাঁরহীন
মাঝে শুধুই অন্তসার প্রিয়তম নগ্ন কাঁটাতার- ও যে অসীম।
কলকাতা তুমি আমার- তিলোত্তমা; প্রেমের প্রিয়তম কলকাতা।
১৫ নভেম্বর, ২০১৯, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।

