চাষা হাবিবের বর্ষা নিয়ে দুটি কবিতা
বর্ষার গোপন শহর
বর্ষা নামে না আর আকাশ থেকে
সে নামে ঘুমের ভিতর— চোখ বন্ধ করলেই দেখি—
একশহর ছাতাপরে হাঁটে যন্ত্রণারা। পথঘাটে কাদা নয়, ভেসে থাকে কবিতা।
দেয়ালে টাঙানো বৃষ্টির ফ্রেম— তাতে জল পড়ে; কিন্তু কখনও শুকায় না;
একটি মেঘ এসে জানালার পাশে বসে—
সে বলে— আজ আর কান্না করিস না, আমি তোর বদলে কাঁদব রে!
তার গলায় জলের গয়না, চোখে বিদ্যুৎ—
ল্যাম্পপোস্ট থেকে ঝরে পড়ে— একেকটা স্বপ্নে জোছনা মিশে
একেকটা স্বপ্নে আমি হারিয়ে ফেলি নিজেকে
কিংবা পেয়ে যাই এমন কাউকে যার নাম রেখেছিলাম মেঘলতা।
এক বৃষ্টির পাখি গান গায়—
তাকেও কেউ ছেড়ে গেছে কোনো ভিজে চিঠির পাশে।
সে জানে, শব্দ দিয়ে কখনও আশ্রয় মেলে না
তবুও গায়— আবার গায়, বর্ষা—বর্ষা।
এ বর্ষা— এ ঋতু একশহর অবচেতন ছায়ামেঘ;
যেখানে জল দিয়ে লেখা হয় স্মৃতি আর ভিজে থাকে বর্ষার গোপন।
পড়ুন কবিতা: জানালায় এঁটোরাত
বর্ষা যখন মানুষ হয়
বর্ষা এবার দরজায় এসে দাঁড়ায়
ভেজা চুলে জড়িয়ে রেখেছে পুকুরের ঘ্রাণ;
তার চোখ দুটো— ভেসে থাকা জলজ গ্রহ
যেখানে মাছেরা স্বপ্ন দেখে উড়তে শেখার।
আমার ঘর ভাসে না জলে, ভাসে কথাহীন বরষায়—
বর্ষা আমার বইয়ের পৃষ্ঠায় হেঁটে যায় নরম পায়ে
প্রতিটি শব্দে রেখে যায় সোঁদা জলের পদচিহ্ন।
বালিশের নিচে লুকানো কবিতা আজো কাঁদে
বলে— আমাকে একদিন ছাতা বানিয়ে রেখেছিলে, মনে আছে!
রান্নাঘরের আগুনে আজ ভিজে গেছে ইচ্ছেরা ডানা না মেলেই।
রাস্তার ফটকে দাঁড়িয়ে এক মেঘমানব—
যার ছায়া ভিজে চা হয়ে ওঠে। আমি তা চুমুকে চুমুকে পান করি
আর আমার আত্মহননের স্মৃতি ধুয়ে যায় নদীর মতো জলে।
বর্ষা মানুষ হলে, তার নাম কি হতো জানো!— অপেক্ষা;
আর আমরা সবাই ছাতা হাতে দৌড়াতাম তার দিকে।
৪ আগষ্ট ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ দিনাজপুর বর্ষাকাল।

