[বি.দ্র.এই কবিতাটি প্রথম বৃন্দ আবৃত্তি হিসেবে সম্পাদিত হয় ২০০৭ সালে। আমি তখন হালিশহর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে কর্মরত। এরপর দিনাজপুর সরকারি সিটি কলেজ বিজয় দিবস উদযাপন-২০২৩ উপলক্ষে আবার এটি প্রযোজিত হয়।]
কথক: শোন শোন দেশবাসি, শোন দিয়া মন/দুঃখিনি এক মায়ের কথা, করিব বর্ণন।
(দুই সুরে দুইবার)
ঘোষক: আমরা আজ বাঙালি-বাংলাদেশি, শহিদের রক্তের লাল চাঁদর-প্রিয়তম পতাকা। সেই বায়ান্নর ভাষার দাবিতে, শুরু দুঃখিনি মায়ের পথ চলা। সেই থেকে বাঙলার জলে মিশে যায় রক্ত আর বারুদের নেশা।
বৃন্দ: ওরা আমার মুখের ভাষা, কাইড়া নিতে চায়/ মাগো ওরা তোমার মুখের ভাষা, কাইড়া নিতে চায়।
মা: কই রে তোরা, মোর বাছা, কই গেলিরে, ফিরে আয় বাবা। মা যে পথ চেয়ে- ফিরে আয় খোকা।
ছেলে: মা, কেন তুমি খোঁজো আমারে, আমি-আমি আছি ওই মিছিলে। বিজয় নিয়েই তবে ফিরবো ঘরে।
বৃন্দ: রাষ্ট্র ভাষা, রাষ্ট্র ভাষা
বাংলা চাই, বাংলা চাই
আমাদের দাবি, আমাদের দাবি
মানতে হবে, মানতে হবে।
কথক: ছেলেটি তার হারিয়ে গেল মিছিলে, আর ফিরলো না। মায়ের চোখের জল শুকিয়ে গেল শত্রূ হননের মন্ত্রে। শফিক রফিক সালাম-
জব্বারের রক্তে পেলাম বাংলা ভাষা- আমারি মায়ের মুখের ভাষা।
বৃন্দ: মোদের গরব, মোদের আশা- আমরি বাংলা ভাষা।
সুর: আ… আ… আ… আ… আ…
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি- আমি কি ভুলিতে পারি।
সুর: আ… আ… আ… আ… আ…
কথক: আবারো উত্তপ্ত হলো রাজপথ, মিছিলে মিছিলে ঝংকারিত হলো, বাংলার আকাশ-বাতাস, ভাই হারানোর বেদনা জেগে উঠলো স্বশব্দে,
বেদনার বারুদ হয়ে, গর্জে উঠল বীর বাঙালি।
কথক : এবারের সংগ্রাম-মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম- স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
বৃন্দ: রাক্ষসে আর ভয় পাইনে- ভয় পাইনে বর্গীতে
ভয় পাইনে গিয়ে -জলোচ্ছ্বাস আর গোর্কিতে
আজকে মোরা খেল শিখেছি- খেল শিখেছি রাইফেলে
সেটাই মোরা বাগিয়ে ধরি-শত্রু এসে হাঁক দিলে।
সুর : এক সাগরও রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা।
বৃন্দ : আমরা তোমাদের ভুলবোনা-আমরা তোমাদের ভুলবোনা।
বৃন্দ : স্বার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে-স্বার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে।
সুর : এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি/সে যে আমার জন্মভূমি/ সে যে আমার
জন্মভূমি।
বৃন্দ: নতুন জাতির অভ্যুদয়ে বিশ্বে উঠে ঝড়
খতম হলো দলে দলে খান সেনা বর্বর।
কথক: হায়রে স্বাধীনতা, এই কি বেঁচে থাকা, আবারও রক্তাক্ত হয় রাজপথ, খাঁকি পোশাক বার বার ছেঁয়ে ফেলে বাংলা। পিতার রক্তে ভেসে
যায় পথঘাট- উল্লাসে মাতে পরাজিত হায়েনার নাগপাশ।
বৃন্দ: এক দেশের এক দুঃখীরাজা
দেখত অনেক স্বপ্ন
দেশটা যে তার মহামূল্য, অমুল্য সব রত্ন
দুঃখী রাজা দেশটা গড়তে, যখন নামেন জঙ্গে
এমন সময় খুন হয়ে যায়, তার কাফনের রঙ যে।
বৃন্দ: তখন ছিল ভীষণ মাস, নরম নরম ঘাস
দারুণ তেজে ঝলসে যায়, উঠোনসহ মাঠ
বারুদ ঝড়ে তামাম পোড়ে, ফসল গড়ের ক্ষেত
কৃষাণ দাদার কপালটা হয়, বারুদ পোড়া ক্ষেত।
কথক: জমে ওঠে রেস, ক্ষমতার শরীর নিয়ে জেগে ওঠে ফের, দালালের গাড়িতে শোভা পায় পতাকা-রক্ত লালে জুড়ে দেয় কলঙ্ক ফের।
বৃন্দ: আমরা আছি এমন মজার সেই খোঁয়ারে
সেই খোঁয়াড়ে, যায় না থাকার শোঁয়ারে
উঠতে গেলে পড়বে চাবুক-বুক ফাটে তো ফোটেনা মুখ
চোখ থাকতে অন্ধ সবাই
আর সকলি খোঁয়াড়ে
আমরা আছি-এমন মজার খোঁয়াড়ে।
বৃন্দ: শুনেছ কি তোমরা, শুনেছ কি তোমরা-সেই সব মানুষের কান্না
হাজারো ব্যথা বুকে নিয়ে/ধুঁকে ধুঁকে মরে, আজো যে মা বাংলা।
কথক: কেনো মাগো আজও তুমি নির্যাতিত, নিপোড়িত, কেনো তোমার সন্তানেরা না পাওয়ায় বঞ্চিত, কেন আজও টোকাইরা রাস্তায় থাকে মুখ
বুঁঝে, কেন তুমি ধুকে মরো রাজনীতির বিষ পানে। কেন সাম্যের চৌকাঠে দাগ লাগে শোষণ আফিমের।
বৃন্দ: ফুটপাতে শুয়ে আকাশ দেখে
তাদের আবার বাঁচা কি
কেউ কি তাদের খবর রাখে
তারা যে ভোটের রাজনীতি।
সুর: কি দেখার কথা কি দেখছি, কি ভাবার কথা কি ভাবছি/কি শোনার কথা কি শুনছি/এতো বছর পরও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।
কথক: শুন হে, শুন শুন শুনহে সকল, আমাদের আছে ভাই শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যদি সবে কাজে লাগাই,থাকবে না আর অভাব, মাথা উঁচু করে
বাঁচবো- দেখবে সবাই, ভেদাভেদ ভুলে আসি এক কাতারে, দলা-দলি ভুলে যাই দেশের তরে। ভালো যদি বাসো তুমি এই মানুষেরে,
গর্বে মায়ের বুক ভরে, উঠবে নতুন করে।
কথক: শুন হে, শুন শুন শুনহে সকল, আমাদের আছে ভাই শ্রেষ্ঠ সম্পদ, ভালো যদি বাসো তুমি এই মানুষেরে, গর্বে মায়ের বুক ভরে,
উঠবে নতুন করে। (ভিন্ন সুরে অন্যজন)
বৃন্দ: এসো আজ মিলে যাই
তুমি-আমি আমরায়
জেগেছে আবার রোশনাই-পিতার বাংলায়
এসো গড়ি দেশটা- শহিদ স্মৃতির স্মার্ট বাংলা।
সুর: আমি বাংলার গান গাই- আমি বাংলাই গান গাই, আমি আমার আমিতে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই
বৃন্দ : আসুন, বাংলা মাকে ভালোবাসি, বাংলা মাকে পৃথিবীর যোগ্যতম স্থানে প্রতিষ্ঠিত করি,দুঃখিনি মায়ের কান্না জল মুছে ফেলি।
সুর : আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…
রচনা, সম্পাদনা ও নির্দেশনায়:
চাষা হাবিব
কবি ও গবেষক

