চাষা হাবিবের শিশুতোষ ছড়াগুচ্ছ
অ আ ॥
অ.
অনেক সাধের স্বাধীনতা
লক্ষ প্রাণের দামে যে কেনা
ভাই হারানো বোন হারানো মায়ের শোকের আকুলতা
বুকের ব্যাথায় অনেক কথা মায়ের আঁচল অশ্রু ভেজা
বর্ণমালায় শোক যে গাঁথা
অনেক দামের দামী লাল সবুজ এই পতাকা।
আ.
আমার বাংলায় রাখালেরা গান গায়
পাল তোলে সারি সারি মাঝি-মাল্লা দাঁড় বায়
বাঁশের বাঁশি লাঙ্গল চাষী-
ঘুম ভেঙ্গে জেগে দেখি ধান রাশি রাশি
এসো বাংলা খুঁজি শিশিরে ভিজি গায়ে মাখি
ভালোবাসি খাঁটি সোনা প্রিয় এই খাঁকি মাটি।
কাপ্তান ॥
তালপাতার এক সেপাই
হুঙ্কারেতে কাঁপায়-
সেকি ভাই লড়াই;
সেই যে এলো লড়বে বলে জঙ্গে
এখন দেখি কাঁপন দিয়ে জামা গোঁছান;
সুযোগ পেলেই দাঁতে চাবান,
দেখলে ভাবে মস্ত বড় পালোয়ান।
আমি হলাম সুলতান-এলেই লড়ি
ইয়া বড় বড় সেই তুফান।
সেপাইয়ের সেকি ভাই গোঁফখান
তা দিয়ে গর্জে বলে-দেখ মোর ছাঁতিখান।
যমেও ডরে, আসে না কাছে
ও যে ভাই তালপাতার এক কাপ্তান।
দুঃখী রাজা ॥
এক দেশের এক দুঃখীরাজা দেখত অনেক স্বপ্ন-
দেশটা যে তার মহামূল্য অমুল্য সব রত্ন।
দুঃখী রাজা দেশটা গড়তে যখন নামেন জঙ্গে-
এমন সময় খুন হয়ে যায় তার কাফনের রঙ যে।
বুকের পাথর আগলে ধরে পথ ভরে যায় জং এ
এখনও আমরা স্বপ্ন দেখী দুঃখী রাজার রক্ত সবুজ রংএ।
ঐ যে দেখ মিনার বেদী ফুল-পাপড়ির ভীড়ে
লক্ষ লক্ষ রাঙা প্রভাত নিয়েছে সে লুটে।
আজকে আমরা স্বপ্ন দেখী মাথা তুলে দাঁড়াতে
সেদিনও ঠিক বুকের তাজা রক্ত দিয়েছিল বীর মান বাঁচাতে।
সেই সব স্মৃতি বুকে নিয়ে জাগো নবীন আপন বলে
এসো আজ দেশটারে গড়ি তুলি হাতে হাত মিলে ।
হারানো সুর ॥
১.
গায়েন এখন শিলাই দাদা, গান বাজে না কন্ঠে
ঘুমকাতুরে দৃষ্টিতে রোজ ছুটে চলেন গঞ্জে
গরুর গাড়ি উধাও এখন গাড়োয়ান ফুটপাতে
প্যাডেল মেরে সুর খোঁজে গামছায় ঘাম মুছে
গণদেবতা হজম করে সব তৃপ্তির ঢেকুর তুলে।
ঘুমপাড়ানী মাসী-পিসি এখন বলো কোথায়
শোলক বলা কাজলা দিদি তার যে দেখা নাই।
দিদিরা সব হারিয়ে গেছে বর্গীওয়ালার দেশে
ডালিম কুমার তাই হইনা ঘুম রাজ্যের দেশে।
মিকি-মাউস হ্যারিপটার আবোল তাবোল বোলে
ভোগরাজ্যের কন্যারা আজ দমফুরিয়ে মরে।
২.
চাঁদনী রাতে আসর বসে পালা গানের মঞ্চে
পাঁন্দো নাচে কোঁমর দুলে বৌ-ঠাকুরণ ছন্দে
চাচার হাতের জুড়ি বালা জানায় নতুন কিচ্ছা
চাঁদ সওদাগর কাসেম মালা সোঁনাভানের কড়চা
রাক্ষুষ পুরে রাজকন্যা-বন্দী বালা রুপভান
বাংলা মায়ের আঁচল ভরা থোকা থোকা অ্যাখ্যান।
৩.
ব্যাঙের বিয়ের দাওয়াত রইলো,
সঙ এর রাজা সভাপতি
ধারার গানে মোল্লা নাচে গাজীর পটে পাট রাণী
বৃষ্টি নাই বৃষ্টি চাই কাঠ ফাটা রোদ্দুরে
তাই আজ ব্যাঙের বিয়ে আল্লাহ মেঘ দে ছায়া দেরে
নাইওর দিতে ঘেটুর দল পঙ্কীরাজে ময়নামতির চরে।
শুনুন চাষা’র কবিতা
অনুপ্রাসের ডাক ॥
তখন ছিল ভীষণ মাস নরম নরম ঘাস
দারুণ তেজে ঝলসে যায় উঠোনসহ মাঠ
বারুদ ঝড়ে তামাম পোড়ে ফসল গড়ের ক্ষেত
কৃষাণ দাদার কপালটা হয় বারুদ পোড়া ঘট।
খানসেনাদের নখর থাবায় খুবলে ধরা পিয়াস খুন
বুকের তাজা রক্তে আমার রঙিন পতাকা উড্ডীন।
থমকে গিয়ে পথের ধারে আলগা পথে উল্টো দিকে
ন্যায্যতাকে পাশ কাটিয়ে গলায় ছুরি চালান দিয়ে
তেইশ বছর শোষণ করে বললো শেষে জানান দিয়ে
জাতির কণ্ঠ ডাকলে যখন বীর বাঙালি উঠলো ফুঁসে।
সাম্যতারই মহান তেজে ঝলসে ওঠে বাংলা শেষে
লাখো শহিদের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা আসলো তবে।
ভালোবেসে ফুটপাতে॥
ভালোবেসে রাজপথ ঘর বাধে ফুটপাতে
তাই দেখে বাঁকা চোখে চাঁদ হাসে ফিক করে
সওয়ারেজ নালা-ড্রেন সব তার পড়শি
ডাষ্টবিন কেঁদে বলে আমি আছি ভাইটি
ম্যানহোল উঁকি মেরে বাস করে সংসারে
সুখ-দুঃখ নিয়ে চুপ অন্ধকার ভালোবেসে।
ফুটপাতের সংসার দেখে রাখে কুড়ানি
টোকাইরা ভালোবেসে নাম রাখে সুখানি
ফুটপাত ভালোবাসে রাজপথের সংসার
স্বাধীনতায় ওরা বাঁচে সুখে থাকে বারমাস
হিংসায় বুক জ্বলে ল্যাম্বপোষ্ট পুড়ে খাক
তাই ত অন্ধকার ওদের চীর দাস।
রাজপথের সংসারে আড়িপাতে পাহারা
সংসার ভেঙ্গে দিয়ে ভালোবাসে জোৎস্না
ফুটপাতে খেলা করে নবজাতক দোতারা
তার ছিড়ে সুর পায় খুঁজে চেহেরা।
ফুটপাত-রাজপথ মিলেমিশে একাকার
ভালোবাসার সংসার সুখ-দুঃখ পারাবার।
পড়শিরা ভালোবাসে রাজপথের সংসার
রাজনীতি মেহমান প্রশাসন দারোয়ান।
সুখে থাক-ভাল থাক, রাজপথ-ফুটপাত বেঁচে থাক।
পড়তে পারেন : চাষা’র প্রবন্ধ

