১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলা মঞ্চ নাটকের প্রথম প্রফেশনাল নাট্যদল ক্রাউন থিয়েটার এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠিত জুবিলি থিয়েটারের দ্বৈরথ্যের প্রেক্ষাপটে কালজয়ী অভিনেত্রী কনক সরোজিনীকে উপজীব্য করে লেখা চাষা হাবিবের কবিতা–
২৪ নভেম্বর ২০১৯, দিনাজপুর।
কোন এক পাগল করা সন্ধ্যায়- ক্ষতের দাগে
মলমের পরশে তুমিও উষ্ণতা মেখে
আমাকে সেই যে প্রাণমেলায় বেঁচেছিলে হৃদয়ের দামে
তারপর কত দুপুর–কত রাতবাঁসরে হৃদয়ের কালিতে
তুলির আঁছড়ে আমিও রং মেখে পসরা সাজিয়েছি দেহে;
অলিতে–গলিতে আর রুপশহরে নিজেকে বেঁচেছি নগ্ন সন্ধ্যায়
শাড়ির আঁচলে ভাঁজের পাড়ে মেখেছি বেঁচে থাকার আদিরস।
তোমার হাতে মেখে নেওয়া সেসব ফাল্গুনে
তুমি কি অবলিলায় লুটেছো বাহারি ফুলের ঘ্রাণ আর
পায়ে মাড়িয়ে দেবতার আরতিতে মায়ার রেণুতে ঢেঁকেছো তোমার
মুখোশ; যেন গোধূলিতে সাঁঝের আভায় সব খেয়ে ঘরেফেরা
রাখালের ক্লান্ত দেহে ধূলোর আস্তরে জেগে থাকে মেঠো ঘ্রাণ
যেমন হৃদয়দাগ; দেহ পথে হঠাৎ জেগে ওঠা আলপথ
ঢেঁকে ফেলে শিশিরে পদচিহ্ন বিবাদি পা।
মুঠো ভর্তি সোনালু সকাল তোমার পকেটে মেখে নেয় রোদ্দুর আর
আমার সব আমি দৌড়ায় যেন ক্লান্ত দেহে আসে না ভয়ঙ্কর সুন্দর- সেসব
পাগল করা সন্ধ্যা সেখানে আমিও পুড়েছি আলতার লোভ আর
পরিচয়ের আদিমতম ন–সংস্করণে।
ফুলের মধুতে বিষেরা সাপের জবানে লুটে নেয় ক্ষুধিত
ধ্রুবতারার নবাবি পরশ বারবার হাতবদলে আমিও ভয়ঙ্কর
সুন্দরে মেতে উঠি দেহতরির গান- খোলশে রাতের নিকষ
অন্ধকার বীজের অঙ্কুরে যে আলো কনা জেগে থাকে
দিন শেষে আমিও সেরূপ
জেগে থাকি, একদিন ঠিক
একদিন সেই আলো এসে বলবে হেসে এসো আজ
দখিনা দুয়ার খুলে মিশে যাই যমুনার স্রোতে–মেখে নেই সেই
ধ্রুবরস ক্ষতে মেখে সেই রসে নিয়ে নেই প্রতিশোধ অগ্নিবীণা
আর মুচকি হেসে তারাটায়; রাতের আকাশে ফের খুঁজে
নেক পরিচয় যা সে হারিয়েছিল গোধূলির রাহুগ্রাসে।
কোন এক পাগল করা রাতে তুমি যে সুখে ভাসিয়েছো তরী
বেহুলার কামরসে আমাকে বিকিয়েছো গাঙুরের জলে
আঁতর মেখে প্রেমের সওদায় হৃদয় চরে; আজো সেখানে
লতারা জেগে তোলে মুকুল আর শ্বাসমুলে বেঁচে থাকে বালুয়াড়ি
ভয়ঙ্কর সুন্দরে কনক আজো প্রেমমন্ত্র জড়িয়ে হয়ে ওঠে
সরোজিনী ধূপের জলে আমি ভালোবাসি সেই গোধূলি রাতের
ধ্রুবতারা নিকষ অন্ধকার তোমারি প্রেমে সেই প্রেমে
তুমি করো শিশিরের মত শুভ্র অর্ন্তযামি প্রেমময় ও সন্ধ্যা গন্ধমেখে।
কাব্যগ্রন্থ; গহীনের জলে যে তুমি;

