বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও মানবাধিকার কর্মী ।
মহাশ্বেতা দেবী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগড় রাজ্যের আদিবাসীদের (বিশেষত লোধা ও শবর ) অধিকার ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেন।
তিনি সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার সহ একাধিক সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের চতুর্থ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মান যথাক্রমে পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ লাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণে তাকে ভূষিত করেন।
মহাশ্বেতা দেবী ১০০টিরও বেশি উপন্যাস এবং ২০টিরও অধিক ছোটোগল্প রচনা করেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ঝাঁসির রানি (লক্ষ্মীবাই এর জীবনী অবলম্বনে রচিত) যা প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
১৯৬৪ সালে মহাশ্বেতা দেবী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীভূক্ত বিজয়গড় কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। সেই সময় বিজয়গড় কলেজ ছিল দলিত ও শ্রমিক শ্রেণির ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মহাশ্বেতা দেবী শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও মননশীল মানবিক লেখক হিসেবে সমাজ পরিবর্তনে কাজ করেন সাহসিকতার সাথে। তাঁর অমর কথাসাহিত্যে ক্ষমতাশালী শোষক জমিদার, মহাজন ও দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি আধিকারিকের হাতে আদিবাসী ও দলিত অস্পৃশ্য সমাজের অকথ্য নির্যাতনের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে অনন্য শৈল্পিক ভাষ্যে।
মহাশ্বেতা দেবীর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
ঝাঁসির রানি (১৯৫৬, জীবনী)
দ্য কুইন অফ ঝাঁসি (সাগরী ও মন্দিরা সেনগুপ্ত কর্তৃক অনূদিত ইংরেজি অনুবাদ ২০০০ সালে সিগাল বুকস, ক্যালকাটা থেকে প্রকাশিত)
হাজার চুরাশির মা (১৯৭৪, উপন্যাস)
অরণ্যের অধিকার (১৯৭৯, উপন্যাস)
অগ্নিগর্ভ (১৯৭৮, ছোটোগল্প )
মূর্তি (১৯৭৯, ছোটোগল্প )
নীড়েতে মেঘ (১৯৭৯, ছোটোগল্প )
স্তন্যদায়িনী (১৯৮০, ছোটোগল্প )
চোট্টি মুন্ডা এবং তার তীর (১৯৮০, ছোটোগল্প )
বর্তিকা – লিটিল ম্যাগাজিন (সম্পাদক)
মমহাশ্বেতা দেবীর গল্পের চলচ্চিত্রায়ন:
সংঘর্ষ (১৯৬৮), ‘লায়লি আসমানের আয়না’ ছোটোগল্প অবলম্বনে নির্মিত হিন্দি চলচ্চিত্র।
রুদালি (১৯৯৩)
হাজার চৌরাসি কি মা (১৯৯৮)
মাটি মায় (২০০৬), ‘দায়েঁ’ ছোটোগল্প অবলম্বনে নির্মিত মারাঠি চলচ্চিত্র।
গাঙ্গোর (২০১০), ‘চোলি কে পিছে’ ছোটোগল্প অবলম্বনে নির্মিত ইতালীয় চলচ্চিত্র।
মহাশ্বেতা দেবী তাঁর ‘লুসুন ‘প্রবন্ধে লিখেছেন–”আমি বলতে পারি, বিশ্বাস করি, বলেও থাকি যে, লেখার জগতে মোটামুটি দুটি শিবির আছে। একটি সংগ্রামী ও একটি প্রতিক্রিয়াশীল। তিনি সংগ্রামী ধারার লেখক হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে থাকবেন।
জন্মশতবর্ষে জানাই লেখকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।