Sunday, March 1, 2026
spot_img
Homeঐতিহ্য-মিথদিনাজপুর জেলার লোক ও কারুশিল্প

দিনাজপুর জেলার লোক ও কারুশিল্প

দিনাজপুর জেলার লোক ও কারুশিল্প

চাষা হাবিব

উত্তরবঙ্গ খ্যাত বাংলাদেশের সুপ্রাচীন জেলা দিনাজপুর। বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন জনপদকেন্দ্র বলা হয় এই দিনাজপুরকে। সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল হতে এ অঞ্চলের রয়েছে আদি ঐতিহ্য। নানান চড়াই উতরাই পেরিয়ে আজকের দিনাজপুর যেন কালের নিরব স্বাক্ষী। বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার রয়েছে অসংখ্য গৌরব গাঁথার ইতিহাস, ঐতিহ্য। বলা হয় এ জনপদের হাত ধরেই বাংলাদেশে তথা বঙ্গে ইসলামের অনুপ্রবেশ১। লোকশিল্প ও সংস্কৃতিতে অত্যন্ত সমৃদ্ধ উত্তরবঙ্গ খ্যাত দিনাজপুর জেলা।

 তাই তো প্রাচীন শোলক্য সাহিত্যে বলা হয়-

চাল চিড়া চট গুড়
এই নিয়ে দিনাজপুর।

দিনাজপুর জেলা সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ১১২-১২০ ফুট গড় উচ্চতায় অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এই জেলা ২৫০১০¢ ও ২৬০ ০৪¢ উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৮০ ২৩¢ ও ৮৯০ ১৮¢ দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। মোট ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই জেলার আয়তন ৩৪৩৭.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারী অনুযায়ী জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৩,১৫,২৩৮ জন। যার মধ্যে পুরুষ ১৬,৬০,৯৯৭ জন এবং নারী ১৬,৫৩,৩০৫ জন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২। উত্তর-দক্ষিণে লম্বালম্বিভাবে বিস্তৃত এ জেলার উত্তরে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়, দক্ষিণে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট, পূর্বে নীলফামারী ও রংপুর জেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দিনাজপুর জেলা অবস্থিত। জেলাটি সাম্প্রতিককালে গঠিত রংপুর বিভাগের অন্তর্গত। দিনাজপুর জেলা বলতে বর্তমান সময়ের দিনাজপুর জেলাকে বোঝানো হয়েছে। তবে, প্রাসঙ্গিক অতিক্রম করেছে, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বৃহত্তর দিনাজপুরের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। দিনাজপুর জেলা রংপুর বিভাগের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। বর্তমানে এ জেলায় বসবাসরত ১৭টি আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সংখ্যা ১,০৯৫১৮ জন। জেলায় কৃষিতে ৪২.৮৫%, কৃষি শ্রমিক ২৯.১৯%, শ্রমিক ২.৪৮% , ব্যবসায় ১০.২০%, পরিবহন শ্রমিক ১.৬৭% এবং চাকুরীতে ৫.৫৮% মানুষ যুক্ত। মোট জনগোষ্ঠির ভূমিহীন ৩০%, প্রান্তিক কৃষক ৩৬%, মাঝারী কৃষক ১৩%, বড় কৃষক ৫% এবং জেলার মাথাপিছু আবাদী জমির পরিমান ০.০৫ শতাংশ২।  এ জেলার রয়েছে লোক ও কারুশিল্পের হাজার বছরের ঐতিহ্য।

দিনাজপুর জেলার পটভূমি 

সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যমন্ডিত দিনাজপুরের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ছোট নাগপুর, বিন্ধ্যা পর্বত প্রভৃতি লাখ লাখ বছরের প্রাচীন স্থানগুলোর মৃত্তিকার সমগোত্রীয় দিনাজপুরের মাটি। বহুকাল পূর্বে হিমালয় পর্বতের ভগ্নীরূপে জন্ম নেয়া বরেন্দ্র ভূমির হৃদয়-স্থানীয় স্থান দিনাজপুর। চৈনিক ও ইউরোপীয় ভ্রমণকারীদের বিবরণীতে বৃহৎ ও সুনাব্য নদীরূপে বর্ণিত করতোয়া নদীর তীরে কোন এক অজ্ঞাত সময় থেকে এক উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। করতোয়ার তীরে গড়ে উঠে বলে একে করতোয়া সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করা হয় আবার একে ভাত সভ্যতা হিসেবে কেউ কেউ অভিহিত করে থাকেন৩। মধ্যযুগে মহাস্থান, বানগড় এবং মোগল যুগে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটই ছিল এই সভ্যতার প্রধান নাগরিক কেন্দ্র। ইতিহাস খ্যাত পঞ্চনগরী দিনাজপুরেই অবস্থিত। বলা হয়, দিনাজপুর একটি পৌরাণিক জনপদ। যমুনা-করতোয়ার অববাহিকায় অবস্থিত এ সভ্যতার বিভিন্ন ধ্বংসবিশেষগুলি চরকাই, বিরামপুর, চন্ডীপুর, গড়পিংলাই, দামোদরপুর, কোটিবর্ষ, বৈগ্রাম ইত্যাদির ধ্বংসাবশেষ নামে পরিচিত। মৎস্যন্যায় যুগে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় করতোয়া নদীর পাড়ে এক উল্লেখযোগ্য বৌদ্ধ বিহার নির্মিত হয়। স্থাপত্য শৈলীর বিবেচনায় এটি বাংলাদেশে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহারের মধ্যে তৃতীয় স্থানীয়। ৮ম শতকে গোড়াপত্তন হওয়া পাল বংশের ভ্রাম্যমাণ রাজধানীর বহু ধ্বংসাবশেষ দিনাজপুরের মাটিতে মিশে আছে। পাল রাজত্বকালে পার্বত্য কম্বোজ জাতির আক্রমণ এবং কৈবর্ত বিদ্রোহের ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে দিনাজপুর। সেন রাজত্বকালে নির্মিত অসংখ্য দেব-দেবীর প্রস্তরমূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে দিনাজপুরসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায়।৪

লোকশ্রুতি অনুযায়ী জনৈক দিনাজ বা দিন মুহাম্মদ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নামানুসারেই রাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর। কোম্পানী আমলের নথিপত্রে প্রথম দিনাজপুর নামটি ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। তবে ভৌগলিকভাবে দিনাজপুর মৌজাটি অতি প্রাচীন। দিনাজপুরের ভূতপূর্ব কালেক্টর ও বিখ্যাত প্রতœতত্ত্ববিদ মিঃ ওয়েষ্ট মেকট সর্বপ্রথম দিনাজপুর নাম ও তার উৎস উদঘাটন করেন বলে জানা যায়।৫ এখানে উল্লেখ্য যে, লক্ষ্মণ সেনকে বিতাড়িত করে তুর্কি বিজেতা ইখতিয়ার উদ-দীন বখতিয়ার বিন খিলজী ১২০৪ সালে বরেন্দ্র ভূমি বিজয় করে দিনাজপুরের দেবকোটে বা কোটিবর্ষে মুসলিম রাজধানী স্থাপন করেন। ১২২০ সালে গৌঁড়ে স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দেবকোর্টই ছিল বাংলার রাজধানী।

দিল্লী শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সুরক্ষায় ইলিয়াস শাহ কর্তৃক নির্মিত ঐতিহাসিক একডালা দুর্গের অবস্থানও ছিল দিনাজপুরের মধ্যেই। হত্যা রাজনীতির মাধ্যমে গৌড়ীয় সুলতান গিয়াসউদ্দিন আযম শাহকে অপসারণ করে গৌড়ের মসনদে আরোহণকারী রাজা গণেশ দিনাজপুরের অধিবাসী ছিলেন। পরবর্তীতে গণেশ পুত্র যদু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে জালালুদ্দীন মুবারক শাহ নাম ধারণ করে গৌড়ের সিংহাসনে আরোহণ করেন৬।

গৌড়ীয় সুলতান বরবক শাহের সেনাপতি ইসমাইল গাজীর নেতৃত্বে আত্রাই নদীর তীরবর্তী মাহিসন্তোষ নামক স্থানে কামতারাজের সঙ্গে তুমুল যুদ্ধ হয় এবং পরে কামতাপুর দুর্গ (দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে) বিজীত হয়। ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর পশ্চিমতীরে ইসমাইল গাজী এক মুসলিম নগরীর গোড়াপত্তন করেন। পরবর্তী কালে যা বিখ্যাত ঘোড়াঘাট সরকার নামে পরিচিত হয়। জিন্দাপীর নামে অভিহিত ইসমাইল গাজী ও বহু আউলিয়ার মাজার ঘোড়াঘাটে বিদ্যমান।

১৪৬০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান বরবক শাহ স¤পাদিত এবং চেহেলগাজীর মাজারে প্রাপ্ত একটি ফার্সী শিলালিপি থেকে জানা যায় দিনাজপুর শহরসহ উত্তরাংশের শাসনতান্ত্রিক এলাকার শাসনকর্তা নসরত উলুখ নসরত খাঁন চেহেলগাজী মাজারের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, যা বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন মসজিদ বলে চিহ্নিত। হোসেন শাহী আমলের বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলাম প্রচারকের মাজার দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, দেবকোটসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এছাড়া দিনাজপুরের বুকে শেরশাহী আমলের মসজিদ, সড়ক ও সেতু শূরবংশীয় অধিকারের প্রমাণ বহন করে।

মোগল আমলে বাংলা বিজয়ের পর সমগ্র বাংলাদেশকে ২৪টি সরকারে ভাগ করা হয়। এতে দিনাজপুর ঘোড়াঘাট, বরকাবাদ, তাজপুর এবং পিঞ্জরা নামের ৪টি সরকার অন্তর্ভুক্ত হয়। সবদিক বিবেচনায় বাংলার ঘোড়াঘাট শ্রেষ্ঠ সরকার ছিল। ঘোড়াঘাটের শেষ ফৌজদার ছিলেন ঐতিহাসিক গ্রন্থ মোজাফফরনামা রচয়িতা করম আলী খান। সেই সময় মসজিদ ও মুসলিম নগরীতে পরিণত হয় মোগল আমলের ঘোড়াঘাট। বিখ্যাত সূরা মসজিদ ও আউলিয়াদের মাজারে ধন্য হয় ঘোড়াঘাট।

বাংলাদেশে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সূচনায় সৃষ্ট আদি জেলা শহরগুলির অন্যতম দিনাজপুর। ইংরেজ সেনারা পলাশী যুদ্ধের আট বছর পর ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে এ এলাকা জয় করে। ফলে নবাবী শাসনের অবসানের সঙ্গে পতন হয় সাবেক রাজধানী ঘোড়াঘাট নগরের। তারপর থেকে গড়ে উঠতে শুরু করে দিনাজপুর শহর। দিনাজপুর গেজেটিয়ারের মতে ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে জেলা শাসনের জন্য দিনাজপুরে স্বতন্ত্র স্থায়ী কালেক্টরেট স্থাপিত হয়। তার পূর্ব পর্যন্ত দিনাজপুর-রংপুর যুক্ত কালেক্টরেট ছিল। রাজ সেরেস্তা থেকে নথিপত্র প্রত্যাহার করে জিলা স্কুলের পুরাতন ভবনটিতে (সম্প্রতি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে) কালেক্টর অফিস স্থাপিত হয়। জেলা স্কুল হওয়ার পূর্বে ভবনটি রাজকাচারী ছিল। তখন কালেক্টর ছিলেন মি. ম্যারিওয়েট; রাজা ছিলেন রাজবংশের নাবলক উত্তরাধিকারী রাধানাথ।

১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সেনাপতি মি. কোট্রিল ঘোড়াঘাটের শেষ মুসলিম ফৌজদার করম আলী খানকে পরাজিত করে এই অঞ্চলে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। এ অঞ্চলে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে ইংরেজরা ১৭৭৩ সালে বঙ্গদেশকে যে ৫টি প্রদেশে ভাগ করে তার মধ্যে দিনাজপুর প্রদেশ (৫টি জেলা নিয়ে) অন্যতম৭। ইংরেজরা ১৭৮৬ সালে নতুন জেলা গঠন করে এবং ১৭৯৩ সালে দিনাজপুরে জেলার দপ্তর স্থাপন করে। দিনাজপুরের কালেক্টর মি. এইচ জে হ্যাচ (১৭৮৬-১৭৯৩ পর্যন্ত কালেক্টর ছিলেন) এর আমলে দিনাজপুরে প্রথম নিজস্ব কালেক্টরেট ভবন নির্মিত হয় বর্তমান বাহাদুর বাজারস্থ গোলকুঠিতে। জেলা কালেক্টরেট নির্মিত হওয়ায় এবং সেই সঙ্গে সুবিন্যস্ত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ায় আধুনিক জেলা শহরটির গড়ন শুরু হয় রাজাদের দেয়া কয়েকটি মৌজার উপর। দিনাজপুর শহর তখন জেলা শাসনের কেন্দ্র ও সবকিছুর কর্মস্থলে পরিণত হতে শুরু করে। ১৮৩৩ থেকে ১৮৭০ সাল পর্যন্ত দিনাজপুরের বিভিন্ন অংশ পূর্ণিয়া, রংপুর ও রাজশাহীর মধ্যে অন্তর্ভুক্তি ও বিচ্যুতি ঘটে। ১৮০০ হইতে ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে দিনাজপুরের বড় বড় এষ্টেট পূর্ণিয়া, রংপুর এবং রাজশাহী জেলার সংগে যুক্ত করা হয়। ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে আরও একটি সুবিস্তৃত অংশ বগুড়া ও মালদহ জেলার সাথে যুক্ত করার পূর্ব পর্যন্ত আর কোন রদবদল করা হয়নি। ১৮৬৪-১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে খট্রা নামক একটি সুবিশাল পরগণাকে এ জেলা হতে ছেঁটে বগুড়া জেলার সাথে যুক্ত করা হয়। ১৮৬৮-১৮৭০ সালের দিকে এ জেলার একটি বৃহৎ অংশ বগুড়া ও মালদহ জেলায় যুক্ত হয়। ১৮৯৭-১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে এ জেলার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত মহাদেবপুর থানা রাজশাহীতে স্থানান্তরিত হয়। পাকিস্তান-পূর্ব আমল পর্যন্ত আর কোন রদবদল হয়নি।৮

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট ইংরেজ রাজ শাসিত ভারতের বুকে পাকিস্তান ও ভারত নামক দুটি আলাদা রাষ্ট্র আত্মপ্রকাশ করে। ঐ সময়ে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুসারে এ জেলার দশটি থানা ভারতের পশ্চিম বাংলা প্রদেশের অন্তর্ভূক্ত হয় এবং পশ্চিম দিনাজপুর জেলা গঠন করে। অপরদিকে পশ্চিম বাংলার জলপাইগুড়ি জেলা হতে তেতুলিয়া, পঞ্চগড়, বোদা, দেবীগঞ্জ ও পাটগ্রাম থানা দিনাজপুরের সাথে যুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সরকার শাসনকার্যের সুবিধার্থে পাটগ্রাম থানাটি রংপুরের সাথে এবং দিনাজপুরের দক্ষিণ অংশের ধামইর, পোরশা ও পতিœতলা থানা তিনটি তৎকালীন রাজশাহীর নওগাঁ মহকুমার সাথে যুক্ত করে। সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে দিনাজপুরের দুটি মহকুমা ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় আলাদা জেলার মর্যাদা লাভ করে। ভারতেও দক্ষিণ ও উত্তর দিনাজপুর নামে দিনাজপুর জেলার বিভক্তি ঘটে। বর্তমানে এ জেলার মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ১০১, পৌরসভা ০৮টি, মৌজা ২,০২০টি, ওয়ার্ড ৫৭টি, মহল্লা ২০০টি এবং গ্রাম আছে ২১৪২টি৯।

দিনাজপুর জেলার আবহাওয়া ও জলবায়ু

দিনাজপুরের জলবায়ু অপেক্ষাকৃত শুষ্ক এবং চরমভাবাপন্ন। বাংলাদেশের অন্যান্যস্থানের তুলনায় দিনাজপুরের শীতকাল দীর্ঘস্থায়ী হয়। অক্টোবর মাসের শেষ দিক থেকে একটু একটু শীত শুরু হয় এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকাল মার্চ মাসের প্রথম থেকে শুরু হয়ে এবং জুন মাসের প্রথম পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মৌসুমী বায়ু জুন মাসের মধ্যে শুরু হয়ে যায়। এপ্রিল ও মে মাসে ঝড় ও শীলাবৃষ্টি হতে দেখা যায়। বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত বেশি হয়। বড় কোনো নদনদী নেই বলে বন্যার তান্ডব তেমন বিপর্যস্ত করে না। ঘূর্ণিঝড় হলেও জলোচ্ছ্বাস নেই। নদীর ভাঙ্গনে গ্রাম ও লোকালয় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত এক অনুকূল পরিবেশ রয়েছে এই জনপদটিতে। তাই আবহাওয়ার বৈরিতায় নয় বরং আনুকূল্যেই এখানে মানুষের জীবন খুঁজে পায় নির্ভরতার অবলম্বন। নিশ্চিন্তে বসবাসের উৎকৃষ্ট ভূ-ভাগ এ জেলা। এখানে বৃষ্টিপাত যা হয় তা মোটামুটি স্বাভাবিক। মাঝে-মধ্যে বৃষ্টিহীনতার কারণে খরার প্রকোপ দেখা দিলেও তা খুব একটা স্থায়ী হয় না। আবার অতিবর্ষণ হলেও অতিরিক্ত পানি এর বেলে ও বেলে-দোআঁশ মাটি সহজেই শুষে নিতে সক্ষম হয়। এখানে গ্রীষ্মকালে যে গরম ও তাপ হয় তা সহনীয় মাত্রার। তবে শীতকালে অপেক্ষাকৃত বেশি শীত অনুভূত হয়। এ ছাড়া এ জেলার আবহাওয়ায় নেই কোনো চরমভাব। সবকিছুই সহনীয়, নরম ও রমণীয়১০।

দিনাজপুরের লোকজ জীবন

বলা যায়, বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা বহুধারার মানুষের মিলনক্ষেত্র। যুগ-যুগান্তর ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ এখানে এসে বসতি গড়েছে। নবাগত মানুষ পুরনো অধিবাসীদের সাথে মিশে এখানে এক অভিনব সঙ্কর জাতিসত্তার উন্মেষ ঘটিয়েছে। এ জেলায় ১৭টি আদিবাসী জনগোষ্ঠী বসবাস করে। এরা জাতিতাত্ত্বিকভাবে বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠী থেকে পৃথক, বৈশিষ্ট্যগত দিক থেকে স্বকীয়। দিনাজপুর জেলার আদিবাসীদের এই সত্ত্বাগত স্বাতন্ত্র্য বাংলার সুদীর্ঘ ইতিহাসের পথ-পরিক্রমারই ধারাবাহিকতা মাত্র১১। দিনাজপুর জেলার আদিবাসীরা জাতিসত্ত্বার দিক থেকে যেমন স্বতন্ত্র তেমনি আন্তঃগোত্রীয় বৈশিষ্ট্যেও এরা বৈচিত্র্যময়। আবার এসব আদিবাসীরা ভাষা ও সম্প্রদায়গতভাবে যেমন পরস্পর থেকে স্বতন্ত্র তেমনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবেও এরা আলাদা।

দিনাজপুরের লোকজ জীবন
দিনাজপুরের ঢেপা পুতুল

দিনাজপুরের মানুষের জীবনযাত্রা কৃষি নির্ভর এবং তাদের প্রাথমিক আয়ের উৎস কৃষিভিত্তিক বেশীরভাগ কৃষিজমি অল্প কিছু লোকের মালিকানায়, ফলে বেশীরভাগ মানুষ কৃষিশ্রমিক। তাই এ জেলার লোকশিল্প ও কারুশিল্পের বিকাশ ঘটেছে  কৃষি এবং কৃষিজ জীবনধারা থেকেই। মুলত বাঙালি হিন্দু, মুসলিম, সাঁওতাল, কড়া, কোচ, ওরাঁও, মেচ, রাজবংশী (পলিয়া), তুরি, মু-া, পাহান, মালাকার, মশহুর-সহ বহু জনজাতির বাস এ জেলায়। প্রতিটি লোকসমাজে প্রচলিত রয়েছে তাঁদের নিজস্ব লোকাচার ও লোকশিল্প, গান, নাচ ও উৎসব। যেমন- পালাটিয়া, খনগান, মালদার গম্ভীরা, মনসার গান, বিষহরির গান, গাজন,  ভাওয়াইয়া, রাভা ও মেচদের নৃত্য, রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত নানা ধরনের বিয়ের গান১২।

উত্তরবঙ্গের লোকজ শিল্পকর্ম দেশ-বিদেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে। শোলা, কার্পেট, টেরাকোটা, বাঁশের তৈরি কারুশিল্প, কাঠের তৈরি মুখোশ, পুতুল, পাট থেকে নির্মিত ধোকরা শিল্প, কলাগাছের তন্তÍশিল্প এখানে সমৃদ্ধ। বংশপরম্পরায় শেখা এই শিল্পকর্মে বর্তমান প্রজন্ম আকৃষ্ট না হওয়ায় তা অচিরেই হারাবে বলে আশঙ্কা। এইসব শিল্পকর্ম থেকে কর্মসংস্থান হচ্ছে না বলেই অনীহা, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

জেলার ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প

বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে লোক ও কারুশিল্পের অবস্থান মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত, বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। কায়িক শ্রমে ও নান্দনিক কৌশলে ব্যবহারিক বস্তুকে সৌন্দর্য ও কারুমন্ডিত করার উদ্দেশ্য অলঙ্ককরণকেই আমরা কারুশিল্প হিসেবে অভিহিত করি। অন্যদিকে যৌথ চেতনার ফসল হচ্ছে লোকশিল্প। যা, স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহজ-সরল পরিবেশে তৈরি হয়। একজন প্রধান শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম আরও কয়েকজনের স্পর্শে হয়ে ওঠে সর্বজনীন লোকশিল্পে। গঠনশৈলী, বিষয়বস্তু, উৎপাদন ও নির্মাণ কৌশলে লোকজ রূপ থাকায় তা লোকশিল্প হিসেবে পরিগণিত হয়। আর সুশৃঙ্খল সূত্রমাফিক তৈরি করা হলেও কারুশিল্পে থাকে ঐতিহ্যের সমাবেশ। সৃজনশীলতার পাশাপাশি বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসে দিনাজপুরের কারুশিল্প ও কারুশিল্পীদের অবদান অনস্বীকার্য। আবহমানকাল থেকেই এ অঞ্চলের লোক ও কারুশিল্প নিজ নিজ ধারায় প্রবহমান।

আয়তন ও বৈচিত্র্যের তুলনায় দিনাজপুরের লোক ও কারুশিল্পের ভান্ডার অনেক বেশি সমৃদ্ধ। কারুশিল্পের বিশাল ভান্ডারে রয়েছে নঁকশি কাঁথা, পাটের দড়ি, শিখা, সতরঞ্জি, ধাতব শিল্প, শঙ্খ শিল্প, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, ঝিনুক শিল্প, পুতুল শিল্প, পিতল-কাঁসা শিল্প, বাঁশ-বেত শিল্প, শোলাশিল্প ইত্যাদি। এছাড়া নকশি পাখা, রুমাল, নকশি শিকা, শীতলপাটি, মাটির ফলকচিত্র, পাতা ও খড়ের জিনিস, লোকচিত্র প্রভৃতি দিনাজপুরের অন্যতম লোক ও কারুশিল্পের নিদর্শন। বেঁচে থাকার তাগিদে কাজ করতে গিয়ে এবং অবসর মুহূর্তে বসে এসব শিল্প-সম্পদ তৈরি করেছে কারুশিল্পীরা। এ অঞ্চলের লোকজীবনের শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যগুলোই বিধৃত হয়েছে এসব লোক ও কারুশিল্পে। এসব শিল্প আমাদের ঐতিহ্যের প্রতীক, সেই সাথে গৌরবেরও।

তাঁত ও তন্তু শিল্প

দিনাজপুরের তাঁত ও কলাগাছের তন্তÍশিল্পের ঐতিহ্য সর্বজনবিদিত। তবে সম্প্রতি দিনাজপুরের এ শিল্পটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও কতিপয় মহান শিল্পী এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তাঁত ও তন্তু শিল্প
দিনাজপুরের তাঁত

নকশি কাঁথা

নকশি কাঁথা দিনাজপুর তথা বাংলাদেশের লোক ও কারু শিল্পের ঐতিহ্যমন্ডিত ও নান্দনিক নিদর্শন। পুরনো কাপড়ের কাঁথা সেলাই করে তার ওপর গ্রামবাংলার নারীরা বিভিন্ন নকশা তোলেন-একেই বলে নকশি কাঁথা। এই নকশি কাঁথায় জড়িয়ে থাকে অনেক সুখ-দুঃখের স্মৃতি। এসব নকশি কাঁথার ব্যবহার ভেদে বিভিন্ন নামও রয়েছে। যেমন- গায়ে দেয়ার কাঁথা, বিছানার কাঁথা, শিশুর কাঁথা, সুজনী কাঁথা, বর্তনী রুমাল কাঁথা, পালকর কাঁথা, বালিশের ঢাকনি, দস্তরখানা, পান পেঁচানী, আরশীলতা প্রভৃতি১৩। সম্প্রতি দিনাজপুরের অনেক নারী উদ্যোক্তা এ  শিল্প বিকাশে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ করছে।

নকশি কাঁথা
দিনাজপুরের হাতে তৈরি নঁকশী কাঁথা

শিকাশিল্প

শিকাশিল্প পাটের ভূমি খ্যাত দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প স্বতন্ত্র ও আপন মহিমায় সমুজ্জ্বল নাম। পাট হচ্ছে শিকা তৈরির প্রধান উপকরণ। তবে নকশি শিকা তৈরিতে বাঁশের কঞ্চি, সুতলি, ঝিনুক, কড়ি, শঙ্খ, কাপড়, পোড়ামাটির বল ইত্যাদিও ব্যবহৃত হয়। বইপত্র, কাঁথা-বালিশ, শিশি-বোতল, বাসনপত্র, পাতিল-কলসি, আয়না-চিরুনি এসব সর্বত্রই বিভিন্ন সাইজের শিকা তৈরি করেন দিনাজপুরের গ্রামীণ নারীরা। শিকার ব্যবহার বর্তমানে কমলেও একেবারে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। গ্রামীন নারীদের তৈরি নকশি শিকার অসংখ্য নাম রয়েছে, যেমন- উল্টাবেড়ী, ফুলটুংগী, রসুন দানা, আংটিবেড়, ফুলমালা, ডালিম বেড়, ফুলচাং, গানজা ইত্যাদি১৪। পাট দিয়ে ঐতিহ্যবাহী শিকা তৈরির পাশাপাশি আজকাল পাটের তৈরি টেবিল ম্যাট, মানি ব্যাগ, ফ্লোর ব্যাগ, নেট, প্লেটম্যাট, লেডিস ব্যাগ, দেয়াল সজ্জা ও গৃহসজ্জারও রকমারি সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। এসব সামগ্রীও দেশ-বিদেশে সমানভাবে সমাদৃত হচ্ছে।

শিকাশিল্প
দিনাজপুরের শিকাশিল্প

নকশি পিঠা ও মিঠাই

নকশি পিঠায় দিনাজপুরের রয়েছে ঐতিহ্য। বিশেষ করে পূজা-পার্বন, উৎসব এবং মেলাকে ঘিরে এ পিঠা ও মিঠাইয়ের বাজার অনেক বড়। বিভিন্ন সাইজ এবং বাহারি নামের নকশি পিঠা এবং মিঠাই গ্রামীন নারীরা আদিকাল থেকেই তৈরি করে আসছেন। ভাঁপা, পুলি, সমশা, অন্বেষা, চিতই, গড়গড়িয়া,  পোয়া, পাটিসাপটা এবং কলইয়ের পিঠা প্রভৃতি অন্যতম এবং বাতাসা, ম-া, খাজা মিঠাই হিসেবে বহুল প্রচলিত।

নকশি পিঠা ও মিঠাই
দিনাজপুরের নঁকশী মিঠাই

নকশি পাখা

নকশিকাঁথা, নকশি শিকা আর নকশি পিঠার মতোই দিনাজপুরের লোক ও কারুশিল্পের ঐতিহ্যের আরেক প্রতীক হচ্ছে নকশি পাখা। তালপাতা, সুপারীর পাতা ও খোল, সুতা, পুরনো কাপড়, বাঁশের বেতি, নারিকেল পাতা, চুলের ফিতা, পাখির পালক ইত্যাদি অতি সাধারণ ও সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে পাখা তৈরি করা হয়। গ্রীষ্মকালে শরীর ঠান্ডা করার জন্য নকশি হাতপাখার ব্যাপক প্রচলন লক্ষ্যনীয়। এসব নকশি পাখার রয়েছে বাহারি নাম- যেমন বাঘাবন্দী, শঙ্খলতা, কাঞ্চনমালা, সজনে ফুল ইত্যাদি১৫। এক সময় বর, বধূ ও তাদের সঙ্গে আসা মেহমানদের বড় সাইজের তালপাতার হাতপাখা দিয়ে বাতাস করা ছিল এ অঞ্চলের ঐতিহ্য।

নকশি পাখা
নঁকশী পাখা

লোকচিত্র

দিনাজপুরের লোকচিত্র লোক ও কারুশিল্পের এক বর্ণাঢ্য ও ঐতিহ্যবাহী ভুবন। নানা সৃষ্টিতে রূপ লাভ করেছে সৃজনশীল চিত্রশিল্প। আবহমানকালের লোক সমাজের দৈনন্দিন জীবন, ধর্ম বিশ্বাস, লৌকিক আচার-আচরণ ধারণ করে আসছে এ দেশের এক অমূল্য সম্পদ চিত্রিত হাঁড়ি। অঞ্চলভেদে এসব চিত্রিত হাঁড়ির রয়েছে বিভিন্ন নাম। দিনাজপুরের প্রায় সর্বত্রই চিত্রিত হাঁড়ি, কলসি পাওয়া যায়। দিনাজপুরের শখের হাঁড়িতে রয়েছে বাংলাদেশের আবহমানকালের ঐতিহ্য। এসব হাঁড়িতে ঘোড়া, পাখি, শাপলা ফুল, পানপাতা, মাছ প্রভৃতি মটিফ ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে আদিবাসী এবং নি¤œবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে এর ব্যবহার লক্ষ্যনীয়১৬।

মৃৎশিল্প

দিনাজপুরের লোক ও কারুশিল্পে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে আছে মৃৎশিল্প। এ শিল্পের রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। এ শিল্পকে ঘিরে গ্রামবাংলার অনেক পরিবার জীবন-জীবিকাও নির্বাহ করে। দিনাজপুর জেলার মৃৎ শিল্পীরা ঐতিহ্যগতভাবে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করে আসছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী মৃত শিল্পসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, সানকি, চুলা, বাটনা, শাক-সবজি, ফলমূল, খেলনা, পুতুল, ঘরের টালি, পানি সেচের নালি, ধর্মীয় প্রতিকৃতি, প্রাণীজ প্রতিকৃতি, অলঙ্কার প্রভৃতি। দিনাজপুরের প্রায় সকল গ্রামীণ হাটবাজার এবং শহর-বন্দরে মাটির এসব জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

মৃৎশিল্প
দিনাজপুরের মৃৎশিল্প

নকশি ছাঁচ

লোকশিল্পকলার একটি স্থায়ী ফর্ম নকশি ছাঁচ। যা দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। মাটি, পাথর অথবা কাঠ দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইনের ছাঁচ তৈরি করা হয়। এ ছাঁচে ফেলে বস্তুকে বিভিন্ন আকৃতিতে রূপদান করা হয়। কাঠের নকশা করা ছাঁচে রং লাগিয়ে কাপড় ও কাঁথা ছাপানো হয়। কাঠ, মাটি ও পাথরের ছাঁচে মিঠাই, ক্ষীর, আমসত্ত্ব, গুড়ের পাটালি ইত্যাদি তৈরি করা হয়১৭।  বিশেষত দিনাজপুরের বিভিন্ন মেলাকে কেন্দ্র করে এবং পূজো ও বৈশাখী উৎসবে এ শিল্পের প্রসার লক্ষ্য করা যায়।

পোড়ামাটির টেরাকোটা শিল্প

বলা হয় প্রাচীন কাল থেকেই দিনাজপুরের করিগরদের হাতেই ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পের বিকাশ ঘটে, যা আজও ক্ষীয়মান ধারায় প্রবাহিত। পৌরাণকি কাহিনীসমূহ ও সমকালীন সমাজ জীবনের বিভিন্ন ছবি এবং জমিদার-অভিজাতদের বিনোদনের চিত্র প্রতিভাত হয় এসব ফলকে। পোড়ামাটির এ শিল্পগুলির বিস্ময়কর প্রাচুর্য, গড়ন, কোমল ভাব ও সৌন্দর্য খুবই যতেœর সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয় যে, বাংলার যে কোন ম্যূরাল চিত্রের চেয়ে তা অনেক উৎকৃষ্ট। কান্তজীউ মন্দির তার উৎকৃষ্ট নিদর্শন। দিনাজপুরের মতো এমন ব্যাপক উর্বর পলিময় ভূমিতে পাথরের অভাব হেতু দেশীয় ধারায় পোড়ামাটি শিল্পের বিকাশ যৌক্তিক কারণেই ঘটেছিল বলে বিশেষজ্ঞমহল বলে থাকেন। আদি ঐতিহাসিক যুগে, বিশেষ করে পাল ও চন্দ্র বংশের আমল থেকেই এ রুপকারক শিল্পের বিকাশ ঘটে। শিল্পীগণ অত্যন্ত উচ্চমানের পরিশীলিত এবং পরিণত শিল্পের সমন্বিত ধারায় অত্যন্ত যতেœর সঙ্গে এসব অলঙ্করণ করেন। এ শিল্পের প্রভাব আমরা কার্পেট ও অন্যান্য সূচিশিল্পে প্রায়শই লক্ষ্য করি। এছাড়া দিনাজপুরের লোক ও কারুশিল্পের মধ্যে বিশেষত পোড়া মাটির হাড়ি অথবা বুননের ক্ষেত্রে শতরঞ্জি ও শাখারিপট্টির কাঁসা-পিতলের খ্যাতিও দেশব্যাপি ছিল বলে অনুসন্ধ্যানে জানা যায়১৮।

পোড়ামাটির টেরাকোটা শিল্প
দিনাজপুরের টেরাকোটা

এছাড়া দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের গ্রামের নারীদের পুতুল হস্তশিল্পের সুনাম দেশব্যাপি বহুল আলোচিত।

দিনাজপুরের কৃষিজ উপাদানকেন্দ্রিক লোকশিল্প

চিড়া

দিনাজপুরের চিড়ার সুখ্যাতি দেশব্যাপি। প্রাচীনকাল থেকেই দিনাজপুরের চিড়া এ অঞ্চলের মানুষের তৃপ্তিকর খাবার হিসেবে চিড়া, চিড়ার নাড়–, চিড়ার জলপান (দই, চিড়া, গুড়) প্রভৃতি প্রচলিত। বর্তমানে ঢেঁকিতে এবং মেশিনে দুই প্রকারের চিড়া বাজারজাত হচ্ছে। সুগন্ধি কাটারি ধান এবং বিআর ২৮ ধানের চিড়া সমধিক প্রচলিত১৯।

চিড়া
দিনাজপুরের বিখ্যাত চিড়া

মুড়ি-খই-মোওয়া-মুড়কি

চালের জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরের লোকশিল্প হিসেবে মুড়ি এবং খই দেশের গন্ডি পেরিয়ে আজ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। একমসয় সিলকুমোর ও মাগুরশাইল ধানের খই মুড়ির বেশ সুখ্যাতি ছিল২০। বর্তমানে চিকন ও সুগন্ধি ধানের খই-মুড়ি-মুড়কি এবং মোওয়া লোকশিল্প হিসেবে টিকে আছে স্ব-মহিমায়।

সিদল

দিনাজপুরের সিদল অত্যন্ত সুস্বাদু ও জনপ্রিয় একটি খাবার। প্রাচীন লোকজ প্রণালী মতে কচু শাক, সুঁটকি মাছ এবং নানাবিধ মসলার মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সিদল প্রস্তুত করা হয়২১। সিদলের স্বাদ যে একবার পেয়েছেন সারাজীবনেই তা ভুলবেন না একথা জোর দিয়েই বলা যায়। এর বাজার মূল্যও বেশ আকর্ষনীয়।

সিদল
দিনাজপুরের উপাদেয় সিদল

ধানের খড়ের বাড়ুন

দিনাজপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিল্প নিদর্শন হচ্ছে ধানের খড় দিয়ে তৈরি বাড়–ন। বিশেষ করে পাইজাম ধানের খড় দিয়ে এটি বোনা হয়। বর্তমানে এ ধান বিলুপ্তি হওয়ায় এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার এ শিল্পকে প্রায় বিলুপ্ত করেছে।

হাল-লাঙ্গল শিল্প

কৃষি কাজের জন্য আবশ্যকীয় উপাদান লাঙ্গল। সাধারণত কাঠ, বাঁশ. ঈশ বা লোহার ফলা এবং দড়ির ব্যবহার করে লাঙ্গল-জোয়াল এবং বলদ দিয়ে জমি চাষ করা হয়, যা এ অঞ্চলের আদিমতম একটি শিল্প বলে বিবেচিত। দিনাজপুরের এমন কোন হাট নেই যেখানে চাষের এসব সামগ্রি বিক্রি না হয়। তবে সম্প্রতি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার এ শিল্পকে বিলুপ্তির পথে নিয়ে যাচ্ছে।

হাল-লাঙ্গল শিল্প
দিনাজপুরের হাতে তৈরি লাঙ্গল

হাতে তৈরি রশি ও দড়ি শিল্প

দিনাজপুরের মাটির বাড়ি নির্মান এবং কৃষিজ জীবনের অন্যতম অনুসঙ্গ হলো পাটের তৈরি দড়ি ও রশি। ফলে সেই প্রাচীন কাল হতেই দিনাজপুরে হাতে তৈরি রশি-দড়ি লোকশিল্পের বিকাশ লক্ষ্যনীয়। আজও যার ক্ষীয়মান ধারা প্রবাহিত। আধুনিক জীবনে এর ব্যবহার কমায় এ লোকশিল্পটিও বিলুপ্তির পথে।

হাতে তৈরি রশি ও দড়ি শিল্প
দিনাজপুরের রশি ও দড়ি

চুন ও খয়ের শিল্প

প্রাচীন কাল হতেই দিনাজপুরের কারিগররা ঝিনুক পুড়িয়ে পানের অন্যতম অনুসঙ্গ চুন প্রস্তুত করে আসছে। এছাড়া খয়ের গাছ থেকে খয়ের তৈরি করে আসছে, যা দিনাজপুরের পানশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ঢেঁকিছাঁটা চাল ও সুগন্ধি ধান

ধান কেন্দ্রিক জীবনে চাল তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ লোকশিল্প। একসময় ঢেঁকিই ছিল চালের অন্যতম উৎস। ফলে দিনাজপুরে লোকশিল্প হিসেবে ঢেঁকিতে চাল বানানোকে অনেকেই পেশা হিসেবে গ্রহন করে। যদিও এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সুগন্ধি ধান/চাল উৎপাদনে দিনাজপুর জেলা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এ জেলায় নানাজাতের সুগন্ধি ধান জন্মে। তন্মধ্যে কাটারি, জিরাকাটারি (চিনিগুড়া), ফিলিপিন কাটারি, চল্লিশাজিরা, বাদশাভোগ, কালোজিরা, জটাকাটারি, চিনিকাটারি, বেগুনবিচি, ব্রিধান-৩৪, ও ব্রিধান-৫০ উল্লেখযোগ্য। একমাত্র ব্রিধান-৫০ রবি/বোরো মৌসুমে আবাদ হয়। অন্যান্য জাতের সুগন্ধি ধানগুলোর অধিকাংশ খরিপ-২/রোপা আমন মৌসুমে আবাদ হয়২২। সুগন্ধি চাল গুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এগুলো খেতে সুস্বাদু ও সুগন্ধ ছড়ায়। এগুলি বিভিন্ন জাতের, কোনটা খাটো, কোনটা লম্বা, কোনটা চিকন আবার কোনটা মোটা ও গোলাকৃতি।  ধানকেন্দ্রিক লোকশিল্প আজও দিনাজপুরের অন্যতম শিল্প।

ঢেঁকিছাঁটা চাল ও সুগন্ধি ধান
দিনাজপুরের সুগন্ধি চাল

শেষকথা

বাঙালি জাতির রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি জাতির গোষ্ঠী চরিত্র বহনকারী যে সমাজ থাকে, তারা তাদের বুদ্ধিমত্তা, নান্দনিকতা ও মনস্তাত্ত্বিক বোধ দিয়ে লোক ও কারুশিল্প সৃষ্টি করে। এই ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতিকে কোথাও কোথাও দেশজ সংস্কৃতি হিসেবে মানুষ চেনে। বাংলাদেশকে যে আবহমান বাংলা বলা হয়, চিরায়ত বাংলা বলা হয়, সেটার দৃশ্যমান নান্দনিকতা এর মধ্য দিয়ে পাওয়া যায় বলে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন।

যাঁরা প্রচারের আলোয় না এসে এখনও লোকশিল্প সৃষ্টির কাজ করে চলেছেন সেইসব গুণী লোকশিল্পীদের যোগ্য সম্মান দিয়ে তুলে আনার পাশাপাশি তাঁদের শিল্পকে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এখনই কার্যকরী পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহন করা উচিত। আর এর জন্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই শিল্পের উপর ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া উচিত বলে মনে করি। আবার সবকিছুকে অনলাইনে প্রকাশের ব্যবস্থা করা উচিত। ফলে শিল্পীর কাজ আন্তর্জাতিক মানের হলে নান্দনিক মূল্যের পাশাপাশি তার বাজার মূল্যও তৈরি করবে। আর এসব শিখন কার্যক্রমে গ্রাামের লোকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত খ্যাতনামা শিল্পীরাই ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্সের পড়–য়াদের হাতে-কলমে কাজ শেখাবেন সেই ব্যবস্থাও  করা উচিত। এতে শুধু সম্মান নয়, বেঁচে যাবে শিল্পও।

লোকশিল্প কোন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক জীবনের শিকড়। লোকশিল্প এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষেত্রের সাথে যুক্ত সুস্পষ্ট সংস্কৃতির চিরায়ত রূপকে ধারণ করে। দৃশ্যমান লোকশিল্প একটি ঐতিহ্যগত সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যবহারের জন্য ঐতিহাসিকভাবে তৈরি করা বস্তুসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। অদৃশ্য লোকশিল্প সঙ্গীত, নাচ এবং আখ্যান কাঠামোর মতো শিল্পসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রকৃতপক্ষে দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য উভয়ই গড়ে উঠেছিল তখনকার প্রয়োজন মিটানোর জন্য। লোক ও কারুশিল্পের দু’টি দিকই মানুষের জীবনে প্রয়োজন বলে মানুষ এটা সৃষ্টি করেছে। তাঁরা তাঁদের ব্যক্তি জীবনে, ব্যবহারিক জীবনে বা নান্দনিকতার কারণে প্রাত্যহিক জীবনের কোনো না কোনো ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করেন। যদি সরাসরি ব্যবহারের কথা বলা হয়, তাহলে কারুশিল্পগুলো দিনাজপুরের কৃষিজ সমাজে ব্যবহারিক জীবনে অনেক বেশি কার্যকর এবং অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন।

এ কথা প্রণিধানযোগ্য যে, কোনো দেশ বা জাতি যদি তার শেকড়ের কথা বলে বা সেই পরিচয় বহন করে, এমনকি জাতীয়তাবোধের পরিচয় বহন করতে চায়, তাহলে এগুলোর চর্চা খুবই জরুরি। মূলত এটি সংরক্ষণ, সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকার বা সরকারি প্রতিষ্ঠান মূল ভূমিকা পালন করতে পারে। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলোতে যদি এ বিষয়ে পঠন-পাঠন বাড়িয়ে দেয়া যায় এবং এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দক্ষ জনবল তৈরি করা যায়, তাহলে এর সংগ্রহ-সংরক্ষণ বৈজ্ঞানিকভাবে করা সম্ভব এবং এর বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো সম্ভব। লোকশিল্প সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা উচিত খুবই আবেগের সঙ্গে। যাঁরা সংগ্রহ করেন, তাঁরা সেটা করেন নিজের দায়িত্ববোধ থেকে, ভালোলাগা থেকে। এসব সংরক্ষণে আমাদের সীমাবদ্ধতা অনেক। এক্ষেত্রে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন এবং জাদুঘর আরও কার্যকরী ভূমিকা গ্রহন করতে পারে। এখানে ফোকলোর একাডেমি বা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার মাধ্যমে পঠন-পাঠনের ক্ষেত্র তৈরির যে সীমাবদ্ধতা আছে তা অনেকখানি পূরণ করা সম্ভব।

দিনাজপুরসহ বাংলাদেশের লোক ও কারুশিল্প বিশ্বখ্যাত। এ লোক এবং কারুশিল্পকে বাঁচাতে সরকার চাইলেই একটি লোকজ সাংস্কৃতিক অধিদপ্তর করতে পারে। এর বিকাশে বাজেটের মধ্যে বরাদ্দ রাখতে পারে। দক্ষ জনবল নিয়োগ, মনিটরিং বা নজরদারি, দেশের কলেজগুলোতে বা পিএসসিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে লোকজ সংস্কৃতি বা ফোকলোর বিষয়ে যাঁদের জ্ঞান আছে তাঁদের বিশেষ গুরুত্ব এবং এই বিষয়টির পঠন-পাঠন আরো জনপ্রিয় করা দরকার। কারণ লোকজ সংস্কৃতি আমাদের জাতীয়তাবোধের পরিচয় বহন করে, এটা আমাদের মানসিক শক্তি দেয়, এগিয়ে যাবার প্রেরণা দান করে। দিনাজপুরসহ দেশের লোক ও কারুশিল্প বাঁচলে আমরা বাঁচবো, বাংলাদেশ বাঁচবে।

তথ্যসূত্র:
১.    মেহেরাব আলী, দিনাজপুরে ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন; পৃষ্ঠা. ২৫-৩০
২.    দিনাজপুর জেলা তথ্যবাতায়ন, অনলাইন ভার্সন
৩.    মেহেরাব আলী, দিনাজপুরের ইতিহাস, ৫ম খন্ড, দিনাজপুর ইতিহাস প্রকাশনা প্রকল্প-২০০২ (প্রথম  পর্যায়)
৪.    আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, দিনাজপুর মিউজিয়াম, নভেম্বর ১৯৮৯; পৃ. ২৫
৫.    মেহেরাব আলী, প্রাগুপ্ত
৬.    ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জান, দিনাজপুরের ইতিহাস, গতিধারা, এপ্রিল ২০১০, পৃষ্ঠা.১৬-১৮
৭.    প্রাগুপ্ত, পৃষ্ঠা. ১৮
৮.    প্রাগুপ্ত, পৃষ্ঠা. ২৫
৯.    জেলা তথ্য বাতায়ন, দিনাজপুর জেলা অনলাইন ভার্সন
১০.    জেলা তথ্য বাতায়ন, দিনাজপুর জেলা অনলাইন ভার্সন
১১.    চাষা হাবিব, সাঁওতাল বিদ্রোহ ও দিনাজপুরের সাঁওতাল-প্রকাশিতব্য
১২.    চাষা হাবিব, প্রাগুপ্ত
১৩.    সাক্ষাৎকার; নুরনাহার বেগম, গ্রাম-দাদুল, ডাক-আটপুকুর হাট, ফুলবাড়ি, দিনাজপুর। তারিখ: ১৯ মার্চ, ২০১৮।
১৪.    সাক্ষাৎকার- নসিমন বেওয়া, গ্রাম-দাদুল, ডাক-আটপুকুর হাট, ফুলবাড়ি, দিনাজপুর। তারিখ: ১৯ মার্চ, ২০১৮।
১৫.    সাক্ষাৎকার- মাসুদা বেগম, গ্রাম-ফরক্কাবাদ (চাকপাড়া), ডাক- ফরক্কাবাদ, বিরল, দিনাজপুর। তারিখ: ২২ মে, ২০১৮।
১৬.    চাষা হাবিব, কড়া সমতলের বিপন্ন আদিবাসীর জীবনালেখ্য, সময়চিহ্ন-২০২০, পৃষ্ঠা.
১৭.    সাক্ষাৎকার- রুপালি রায়, গ্রাম- চিরিবন্দর, চিরিবন্দর, দিনাজপুর। তারিখ: ২৮ মার্চ, ২০১৯।
১৮.    ড. মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, দিনাজপুরের ইতিহাস, ঢাকা: গতিধারা, ২০১০ পৃ.২২.
১৯.    সাক্ষাৎকার- আব্দুল মান্নান, চাল ব্যবসায়ী, বড়বন্দর, দিনাজপুর। তারিখ: ১ মে, ২০১৯।
২০.    সাক্ষাৎকার- আব্দুল মান্নান, চাল ব্যবসায়ী, বড়বন্দর, দিনাজপুর। তারিখ: ১ মে, ২০১৯।
২১.    সাক্ষাৎকার- তছলিমা বেগম, গ্রাম-ফরক্কাবাদ (চাকপাড়া), ডাক- ফরক্কাবাদ, বিরল, দিনাজপুর। তারিখ: ২২ মে, ২০১৮।
২২.    সাক্ষাৎকার- কবি আমিন ইসলাম, পুলহাট, দিনাজপুর, চাল ব্যবসায়ী, দিনাজপুর। তারিখ: ২২ মে, ২০২০।

চাষা হাবিব
কবি ও গবেষক
সম্পাদক- বাহে’ চতুর্মাসিক সাহিত্য পত্রিকা; সাহিত্য সম্পাদক-দৈনিক আলোকিত দিনাজপুর।

দিনাজপুরের বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র
দিনাজপুরের বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments