ইকরা: কসমিক প্রতিধ্বনি
আলোয় আলোকিত এক মহাযাত্রা

মক্কার আকাশে জোনাকির মতো এক শব্দ নেমেছিল—
‘ইকরা’—
আজও কসমিক তরঙ্গের মতো ভেসে বেড়ায়
স্মার্টফোনের নোটিফিকেশন, অ্যালগরিদমের নিউজফিডে
আর ক্ষুধার্ত চোখে— যুদ্ধবিধ্বস্ত শিবিরে।
তিনি এসেছিলেন মরুভূমি থেকে— মরুভূমি কেবল বালু নয়
মানুষের অন্তর শূন্যতা— ভোগের ক্লেদ; শত শতকের হাইওয়ে
যেখানে নিয়নবাতি ঝলকায় অথচ আত্মা থাকে আঁধারে।
১৫০০ বছর হলো—
এ শিক্ষা শ্বাশত— জাদুকরী আয়না
যেখানে আমরা নিজেই দেখি— ভিখারির ছদ্মবেশে
প্রভুত্বশীল সাম্রাজ্যের ভাঙা মূর্তিতে।
এই জন্মবার্ষিকী কোনো উৎসব নয়— এ এক মেটাফিজিক্যাল গ্লিচ
যেখানে অতীত— বর্তমান মিশে যায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো।
পদধ্বনি শোনা যায়— হলোগ্রামে
শিশুর কণ্ঠে
অথবা টংদোকানে বসে থাকা পথফকিরের গানে।
তুমি বলেছিলে—
ক্ষুধার্ত প্রতিবেশী ঘুমালে তুমি পূর্ণ আহারে ঘুমিও না।
আজ আমরা পূর্ণ পেট নিয়ে মেটা-দুনিয়ায় ঘুরি
অথচ পাশের ঘরে কেউ মরছে নিঃশব্দ ক্ষুধায়।
পনেরো ‘শ বছর পরেও তোমার বাণী আজও ছড়ায়
মসজিদ মিনারে হৃদয়েরর ঝংকারে— ইথারে
বিলাপ দেয়ালে পীড়িত চিৎকারে, যেখানে অচেনা শিশু লেখে স্প্রে।
দেড় হাজারতম জন্মদিন তাই কোনো ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়
এ এক রহস্যময় রহমতদরজা— যেখান দিয়ে আমরা প্রবেশ করি
মানবতার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনায়, মুক্তির নরম বিনম্রশান্তিতে।
ইকরা— যে শব্দ আজও ক্ষুধিত পৃথিবীতে রহমতের আলো।
পড়ুন কবিতা: মৃত্তিকামন

