Sunday, March 1, 2026
spot_img
Homeআর্টিকেলরিফর্মিং বাংলাদেশ

রিফর্মিং বাংলাদেশ

পড়ুন প্রবন্ধ: রুচির দুর্ভিক্ষে হাভাতে সংস্কৃতি

রিফর্মিং বাংলাদেশ: রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সংস্কার

রাজনৈতিক দলগুলোর চরিত্রগত পরিবর্তন দরকার সবার আগে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলের যে সাংগঠনিক চর্চা, তাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামাত কিংবা আর সব দলের চরিত্র মোটামুটি একই, মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে আদর্শ, সাংগঠনিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিগত পরিবর্তন। না হলে শুধু চেয়ারের মানুষটিই পরিবর্তন হবে। রিফর্মিং বাংলাদেশে সবার আগে তাই রাজনৈতিক দলের আমূল পরিবর্তন দিয়েই শুরু হোক নতুন বাংলাদেশের পথচলা। অন্যথায় রক্তে অর্জিত এই ভালোবাসার সব প্রত্যাশা বিলীন হয়ে যাবে। পরিবর্তনের প্রত্যাশায় আওয়াজ উঠুক সর্বত্র;

  • এক ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। অনুরূপ দলের প্রধানের ক্ষেত্রেও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি যুতসই বিধান প্রণয়ন করা।
  • একই সময়ে একই ব্যক্তি সংসদ নেতা, দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না এরূপ বিধান রাখা।
  • মূল দলের সাথে কোন সহযোগি সংগঠন না রাখা। যেমন- ছাত্র, যুব, শ্রমিক, মহিলা প্রভৃতি। এর পরিবর্তে জাতীয় ছাত্র পরিষদ, জাতীয় যুব পরিষদ, জাতীয় শ্রমিক পরিষদ, জাতীয় মহিলা পরিষদ প্রভৃতি জাতীয় সংগঠনের সৃষ্টি করা। এসব সংগঠনের নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি পদাধিকার বলে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে
  • ছাত্র, যুব, শ্রমিক প্রভৃতির তথাকথিত দলীয় লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি বন্ধ করতে রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কার করা।
  • সংস্কারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল থেকে পরিবারতন্ত্র বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে নেতৃত্ব সৃষ্টি করা। টাকার জোরে উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতা সৃষ্টির পথ বন্ধ করা।
  • দলের অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অপরাজনীতি রোধে দুদক, বিএফআইইউ, এনবিআর, সিআইডি ও অ্যাটর্নি জেনারেল ও নির্বাচন অফিসকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক দলের মনিটরিং এর জন্য স্থায়ী জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা।
  • দলীয় প্রতীকে প্রদত্ত ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করা।
  • সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে অনাস্থা প্রস্তাব এবং বাজেট ব্যতীত সব ক্ষেত্রে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটের সুযোগ রাখা।
  • বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। তেমনি ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক সৃষ্টির চর্চা বাধ্যতামূলক করা।
  • রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধিত্ব, সরকার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং চর্চায় এমন আমূল পরিবর্তন এনে জবাবদিহির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত করা।
  • ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান যে ম্যান্ডেট অন্তর্বর্তী সরকারকে দিয়েছে, সেই রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্য অর্জনেই নির্বাচন হওয়া উচিত। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ যুব প্রতিনিধি রাখা।

অবশ্য এসব একান্ত আমার মত। বিতর্ক শুরু হোক, নিশ্চয়ই এসব থেকেই আগামির বাংলাদেশের পথ সৃষ্টি করবে।

জয় হোক বাংলাদেশের, জয় হোক বিপ্লবের।

চাষা হাবিব

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments