Sunday, March 1, 2026
spot_img
Homeআর্টিকেলপিতা-মাতা সন্তানের প্রথম শিক্ষক

পিতা-মাতা সন্তানের প্রথম শিক্ষক

পিতা-মাতা সন্তানের প্রথম শিক্ষক

চাষা হাবিব

সন্তানের সুশিক্ষায় পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হযরত লোকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে যে শিক্ষা দিয়েছিলেন তা পৃথিবীর সকল পিতা-মাতার জন্যই আদর্শ। সন্তানের সুশিক্ষায় পিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য। পিতা-মাতাই সন্তানের প্রথম শিক্ষক। আধুনিক বিজ্ঞানও বলছে পিতা-মাতার শিক্ষাই শেষ পর্যন্ত শিশুর আচরণিক ও মূল্যবোধের মূল আধার, যা তার মানস কাঠামো নির্মাণ করে এবং বাবা-মার দেওয়া শিশুকালের সেই শিক্ষাই মানুষ জীবনের শেষদিন পর্যন্ত চর্চিত করে। সুরা লোকমানের ১৭, ১৮ এবং ১৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ হযরত লোকমান (আ.) এর মুখ দিয়ে বলেন-

হে আমার সন্তান। নামাজ কায়েম করো। অন্যকে সৎকর্মে অনুপ্রাণিত করো ও অসৎকর্মে নিরুৎসাহিত করো। আর বিপদ-মুসিবতে ধৈর্যধারণ করো। এটাই প্রত্যয়ী মানুষের কাজ।(সূরা লোকমান, আয়াত: ১৭)

কখনো অহংকারবশত মানুষকে অবজ্ঞা কোরো না, মাটিতে গর্বিতভাবে পা ফেলো না। উদ্ধত অহংকারীকে নিশ্চয়ই আল্লাহ অপছন্দ করেন। (সূরা লোকমান, আয়াত: ১৮)

(হে আমার সন্তান ) চালচলনে সুশীল হও। মোলায়েম কণ্ঠে কথা বলো। (কখনো কণ্ঠস্বরকে গাধার স্বরের মতো কর্কশ কোরো না) নিশ্চয়ই গাধার কণ্ঠস্বর সবচেয়ে কর্কশ। (সূরা লোকমান, আয়াত:১৯ )

একজন স্নেহময় পিতা তার প্রিয় সন্তানকে জীবনের পথচলার দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি তাকে শুধু ধর্মীয় কর্তব্যের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন না, বরং তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বাত্মক পরামর্শ দিচ্ছেন।

প্রথমে তিনি বলেন,হে আমার সন্তান! নামাজ কায়েম করো—অর্থাৎ আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। কারণ নামাজ শুধু ইবাদত নয়, এটি মানুষের অন্তরে শৃঙ্খলা, পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধির বীজ বপন করে।

পরবর্তী নির্দেশনায় তিনি সন্তানকে সমাজমুখী করে তুলছেন। তাকে শিখাচ্ছেন সৎকাজে উৎসাহিত করা, অসৎ কাজে নিরুৎসাহিত করা— যাতে সে নিজের সীমা ছাড়িয়ে সমাজেরও কল্যাণে কাজ করে। আর জীবনের প্রতিটি বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য ধরতে বলছেন, কারণ ধৈর্যই একজন দৃঢ়চেতা মানুষের মূল বৈশিষ্ট্য।

এরপর পিতা সন্তানকে চরিত্র গঠনের দিকেও দৃষ্টি দিতে বলেন। অহংকার, উদ্ধত আচরণ বা অন্যকে অবজ্ঞা করা মানুষের পতনের কারণ— এ কথাটি তিনি জোর দিয়ে শোনান। মানুষ যতই বড় হোক, আল্লাহর কাছে অহংকারী ব্যক্তি অপছন্দনীয়।

সবশেষে সন্তানকে শিষ্টাচারের শিক্ষা দেন। তাকে বলেন, চালচলনে সুশীল হও, নরম কণ্ঠে কথা বলো—কারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তার অন্তরের প্রতিফলন। অতিরিক্ত উচ্চকণ্ঠ বা কঠোর স্বভাব মানুষকে গাধার কর্কশ স্বরের মতো করে তোলে, যা অন্যের কাছে বিরক্তিকর ও অশোভন।

এই আয়াতগুলো থেকে আমরা পাই, শিশুর শিক্ষায় পিতার দায়িত্ব শুধু ধর্মীয় আদেশ-নিষেধ শেখানো নয়, বরং তাকে নৈতিক, সামাজিক ও আচার-ব্যবহারে সুস্থ-সুন্দর করে গড়ে তোলা। পিতা যেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক, যিনি তার অন্তরে ঈমান, সমাজসচেতনতা, ধৈর্য, বিনয় এবং ভদ্রতাকে প্রোথিত করে দেন। এখন প্রশ্ন হলো আমি পিতা হিসেবে আমার সন্তানকে কি শেখাচ্ছি।

পড়ুন : আর্টিকেল রিফর্মিং বাংলাদেশ

Chasa Habib
Chasa Habibhttp://chasahabib.com
Chasa Habib, a Bangladeshi poet, writer and a researcher writing in Bengali language. More than 12 books are published.
RELATED ARTICLES

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments