দোষ ।। চাষা হাবিব
আমি বললেই দোষ
আর তুমি সব খুলে লুম্পেন
তোমার উর্বর বুকে ধানী জমিতে
কী শোনায় প্রেমিক রাজ
আগাছায় লেপ্টে নেওয়া ইতিহাস
হাতে পুরে চাষ করে গর্ভপাতের ধান
আর সে কথা আমি বললেই দোষ।
পোয়াতি চাঁদে ধূসর জমা শিশির দুঃখ
খুবলে খাওয়া সব উত্তাপ
আইলে গজায় যুবা শরীরে ব্যথা
মধ্য দুপুর রাত আর কাঁদতে থাকা ভোর
বুক ফেটে মরে যায় ঘৃণা অবজ্ঞা
অবহেলা মিশে দেয় দেহরস
তুমি সেই রসে ডুবাও তোমার
আর আমি বললেই রসাতল ।
আমি বললেই জোয়ারে ভেসে ওঠে মৃত
আমি বললেই ভাটায় শূণ্য নিস্তেজ
ধূ ধূ পলির পরতে গজায় দেহকাম
অথচ তুমি সেই রোদেলা বাতাসে
গন্ধ শোকা নগ্নতায় করো কারাবাস
সব শুষে ছিড়ে দাও
আর আমি বললেই দোষ।
আমি বললেই রাত হয়–হয় বিদঘুটে
ঈশ্বরও যেন মুছে দেয় দৃশ্যপট
ব্যথায় কাতরায় অপুষ্ট শরীর
ক্রীড়ারত শিশ্ম ঢুকে যায় জমির ভিতর
আবাদ করে ছলা কৌশল চাঁদ ভালোবেসে
আর থকথকে কামরসে স্নান সারো তুমি
আর আমি বললেই দ্রোহ
বললেই সব দোষ আমার।
যেনো সবুজের আন্দোলনে নড়ে বসে
সৌষ্ঠব স্তন মুঠোয় পুরে আরেক নাম
যেনো ময়ুরের ছবি এবং সেই থেকে
অভিনন্দন ধুয়ে শীর্ণতা কাপে রকম।
আর তুমি সব খুলে বিকিয়ে দাও
আমি বললেই যত পাপ বন্ধ জবান।
আমি বললেই
যত অনাচার যত অভিমান
অথচ তুমি কী নিমিষেই দখল করো সব
আমি সেই দখলে থলে হাতে ঘুরি বাজার
গেরস্তের তেল থেকে চুন বউয়ের নথ
পেটিকোট সব হাতে তুমি টুটে ধরো
ঘরময় আর আমি বললেই
আমাকে পুরো খোঁয়াড়ে
আমি কিভাবে রাত জাগি সেও তোমারি
বুকের গলিতে আঁকা ছবিতেও সংশয়।
আমাকে এত্তো ভয়
আমাকেই প্রতিঘাতে ফাঁসাও প্রেমের দায়
কনডেম সেলে বন্দী কফিন আমি পরাধীন।
ধ্বংস করো তবে আমাকে
যদিও হয়নি জয় রক্তচক্ষু কোনদিন
সময় জানে–
শামুকেও কেটে যায় বুক তলপেট নিতম্ব
মনে রেখো জীবন ধ্বংস হয় কিন্তু মানুষ
সেতো টিকে থাকে পরাজয় না মেনেই।
মাঝরাতে ঘর্মাক্ত দেহেও বাড়ে ঘুম
আমি বললেই যত দোষ
সব ভুল যেন আমারই।
কাব্যগ্রন্থ-যাযাবর ক’ছত্র-২০২০;
পড়ুন কবিতা: মৃত্তিকামন

