চর্যার দেহজ্বলে ।। চা ষা হা বি ব
জ্বলে ওঠে চর্যাপদ— দাউ দাউ আগুন
লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকপার কণ্ঠ রক্তে ভেজা বাঁশির মতো কাঁদে;
ভেসে আসে ছাইয়ের ভেতর থেকে— ঝরে পড়ে শতাব্দী প্রার্থনা।
বাংলা বর্ণমালা কঁকিয়ে ওঠে হাহাকারে
তুলটের পুঁথি ভাঙা ডানার মতো
চিড়বিড় করে পুড়ে যায়— প্রতিটি অক্ষর যেন ভাঙা অস্থি।
বুদ্ধের দেশ লাল লজ্জায় ডুবে থাকা পদ্মফুলের মতো
স্বর্গের ঝুল বারান্দায় অসহায় শব্দেরা কেঁপে ওঠে;
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী দাঁড়িয়ে— চোখে শুধু অশ্রু;
ইতিহাসের শবযাত্রা— পড়ে থাকে নীরব শোণিতে।
তালপাতা পুঁথিদেহ দগ্ধ হয়ে
রূপ নেয় কালো প্রজাপতিতে— আকাশ নীরবতায়
অস্থির পাখায় উড়ে যায় অনন্তের দিকে।
ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ে যেমন আগেও পড়েছিল
নালন্দা, আলেকজান্দ্রিয়া আজও তাই যুগনিশ্বাস;
আহা— কাগজ নয়;
দগ্ধ হয় সমগ্র ইতিহাস।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দিনাজপুর।
পড়ুন জুলাই বিপ্লব নিয়ে কবিতা: ছত্রিশ জুলাই: আগুনে ঠাকুরঘর

