বাক্যের লোকটা ।। চা ষা হা বি ব
পড়ুন: কবিগুরুকে নিবেদিত কবিতা
লোকটা জন্মায়নি—
জন্মেছিল ছেঁড়া মানচিত্রে। নদী বয়ে যায় উল্টো;
গাছেরা ছায়া নয়, জ্বালামুখী অন্ধকার পড়ে পথের ওপর।
তার নাম উচ্চারণ মানে—
জিহ্বায় কাঁচের টুকরো শব্দের প্রতিটি অক্ষরে বিস্ফোরণ;
মন্দির, সংসদ, শয়নকক্ষ— সব পুড়ে গোপন নকশা।
লোকটা একদিন নিজের দেহ বানালো দাবার বোর্ড
যেখানে সৈন্যরা— মুক্তচিন্তার পিপীলিকা;
রাজা— অদৃশ্য প্রশ্ন; আর রাণী— অশ্রু, যা কখনো শুকোয় না। ।
লোকটা ধর্মের জানালা দিয়ে ছুড়ে দিয়েছিল রঙিন ইট
ভেতরে ঘুমানো সাপ, কোমল ফণা— স্বাধীনতা মন্ত্র ভেসে যায় হাওয়ায়;
শহরের অন্ধকার কেটে গোপন কক্ষ বারামঘর।
তার কণ্ঠ ছিল স্যুররিয়াল বৃষ্টি—
প্রথম ফোঁটা পড়তেই ছাতারা ভেঙে যায়।
মানুষ ছুটে যায় শুকনো জায়গা খুঁজতে; মাটিই জল হয়ে ভেসে নেয়;
কৃত্রিম নৈতিক পাটাতন— চেপে রাখা ক্ষমতার শীতল সত্যকোষ।
লোকটা চাইতো আমরা হারাই আরাম—
মিথ্যা উদারতার কম্বল, আলমারিতে সাজানো লণ্ঠন;
আর পাপের বোতলে জমা সুগন্ধ রাত।
এমন কণ্ঠস্বর বাঙলা সাহিত্যে বিরল
বজ্রপাত থেমে গেছে বইয়ের পৃষ্ঠায়। বিদ্যুতের আঁচড়ে—
কালি আঙুলে লেগে যায়;তার ক্রোধ, তির্যক হাসি, শীতল যুক্তি;
ঘুমন্ত চোখে আগুনের অক্ষর এঁকে দেয়;
শহরের সব প্রহরী ছদ্মবেশে একসাথে কাঁপে তার নিঃশব্দ তীক্ষ্ণতার নিচে।
২২ আগষ্ট, ২০২৫, দিনাজপুর।

